| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

কুষ্টিয়া কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় দোল পূর্ণিমায় সীমিত পরিসরে লালন স্মরণোৎসব

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 03-03-2026 ইং
  • 107 বার পঠিত
কুষ্টিয়া কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় দোল পূর্ণিমায় সীমিত পরিসরে লালন স্মরণোৎসব
ছবির ক্যাপশন: কুষ্টিয়া কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় দোল পূর্ণিমায় সীমিত পরিসরে লালন স্মরণোৎসব

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম

দোল পূর্ণিমার পবিত্র আবহে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় বাউল সাধক লালন সাঁই-এর স্মরণে একদিনের সীমিত পরিসরের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের ছেঁউড়িয়ায় অবস্থিত লালন একাডেমি প্রাঙ্গণে কোনো জাঁকজমকপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই আয়োজিত এ স্মরণোৎসব ছিল ভাবগম্ভীর, সংযত ও অন্তর্মুখী।

প্রতিবছর দোল পূর্ণিমায় ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়ি এলাকায় দেশ-বিদেশ থেকে ভক্ত-অনুরাগীদের ঢল নামে। রঙের উল্লাস আর বাউল গানের মূর্ছনায় মুখর থাকে চারদিক। তবে এ বছর আয়োজন ছিল সংক্ষিপ্ত ও নিয়ন্ত্রিত। তবুও ভক্তদের আন্তরিক উপস্থিতিতে আখড়ার পরিবেশে সৃষ্টি হয় এক ধরনের আধ্যাত্মিক গাম্ভীর্য—যেখানে বাহ্যিক জৌলুসের চেয়ে প্রাধান্য পায় অন্তরের অনুরণন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. ইকবাল হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট কবি ও গবেষক ফরহাদ মজহার।

বক্তব্যে ফরহাদ মজহার বলেন, “পৃথিবী খুব কঠিন সময়ের দিকে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইন ও নৈতিকতার প্রশ্ন আজ বড় সংকটে।” তিনি মনে করেন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার এই সময়ে মানুষের কল্পনা, প্রজ্ঞা ও পারস্পরিক অনুভূতির চর্চা অত্যন্ত জরুরি। শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর আধিপত্য বিস্তারমূলক নীতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে এসব মন্তব্য তার ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ বলেই স্পষ্ট করেন তিনি।

দেশীয় প্রেক্ষাপট টেনে তিনি বলেন, জনগণ ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশায় সংগ্রাম চালিয়ে গেলেও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক কাঠামোর নানা শর্ত রাষ্ট্র পরিচালনাকে জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)-এর শর্তাবলি নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তিগুলোর বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানান।

সংক্ষিপ্ত আয়োজন হলেও লালনের দর্শন, মানবতাবাদ ও সাম্যের চেতনার আলোচনায় মুখর ছিল পুরো অনুষ্ঠান। আখড়াবাড়ির নিস্তব্ধ পরিবেশে যখন ভেসে আসে বাউল গানের সুর, তখন উপস্থিত সবার মনে জাগে আত্মঅন্বেষণের চিরন্তন আহ্বান—মানুষের ভেতরের মানুষকে খুঁজে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা।

বাহ্যিক আড়ম্বর কম থাকলেও ভাবের গভীরতায় এ বছরের স্মরণোৎসব ছিল অনন্য। দোলের রঙ ম্লান হলেও লালনের বাণী ও দর্শনের রঙ ছড়িয়ে পড়েছে হৃদয়ে হৃদয়ে—যা সময়ের কঠিন বাস্তবতাকেও ছাপিয়ে মানুষকে মনে করিয়ে দেয়, মানবতাই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সত্য।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম