| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

‎প্রতিবন্ধী স্কুলের অনুমোদনের নামে কোটি কোটি টাকা লোপাট করেছেন গাউসুল আযম শিমু ।

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 01-09-2025 ইং
  • 153206 বার পঠিত
‎প্রতিবন্ধী স্কুলের অনুমোদনের নামে কোটি কোটি টাকা লোপাট করেছেন গাউসুল আযম শিমু ।
ছবির ক্যাপশন: ‎প্রতিবন্ধী স্কুলের অনুমোদনের নামে কোটি কোটি টাকা লোপাট করেছেন গাউসুল আযম শিমু ।

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম

লাগামহীন প্রতারনার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম লীগ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি এবং রান ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির মহাসচিব গাউসুল আযম শিমু। বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকারত্বের হার দিনের পর দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় এক শ্রেনীর অসাধু চক্র বেকার যুবক-যুবতীদের সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে নিঃস্ব করার খেলায় লিপ্ত রয়েছে। বর্তমানে একটি চাকরি পাওয়া বেকার যুবকদের কাছে সোনার হরিণ ধরার মতো। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়েছে রান ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি নামক মরণফাঁদ চক্রটি। সারাদেশের বেকার যুবক-যুবতিদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে রান ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির গাউসুল আযম শিমু চক্রটি প্রতিবন্ধী স্কুলের অনুমোদন করে দেবার কথা বলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে বেকার যুবক-যুবতিদের পথে বসানোর উপক্রম করেছে। রান ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি প্রতারক চক্রের মুল হোতা গাউসুল আযম শিমু ২০১৫ সালের দিকে জয়েন্ট ষ্টক থেকে রেজিষ্ট্রেশন নম্বর ১২৭৩০ নিয়ে সারাদেশের আনাচে কানাচে প্রতিবন্ধী স্কুল খুলে দেবে এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে তারাই একমাত্র স্কুল করার অনুমোদন পেয়েছে, এই মর্মে চক্রটি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারীকৃত বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা ২০০৯ এবং তাদের মনগড়া কিছু ফরমেট তৈরি করে সারা দেশে সফর করে প্রতিটি এলাকায় একাধিক দালালের মাধ্যমে প্রতারক চক্রটি তাদের মিষ্টি কথার ফাঁদে ফেলে বেকার যুবক-যুবতিদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এই চক্রটি প্রতিটি প্রতিবন্ধী স্কুল অনুমোদনের কথা বলে ২০-৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এই চৌকশ প্রতারক চক্রটির হাত থেকে রেহাই পায়নি বেকার যুবক-যুবতি থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজের শিক্ষক এমনকি সমাজের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও। এদের ফাঁদে যারা পড়েছে তাদের অনেকেই সর্বস্ব হারিয়ে আজ পথে বসতে চলেছে। এখানে বলে রাখা ভাল প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় সম্পর্কে পরবর্তীতে সরকার বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা-২০১৯ জারী করেছেন। উক্ত নীতিমালা অনুযায়ী একটি নিবন্ধনকৃত এনজিও মাত্র একটি স্কুল করতে পারবে। রান ডেভোলপমেন্ট সোসাইটি কিভাবে দুইশতটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করলো? এ চক্রটি স্কুলের পাঠদানের অনুমোদন দেয় তাদের তৈরীকৃত নিজস্ব প্যাডে। যা মন্ত্রণালয় বা প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশনের চোখে ধুলো দিয়ে ভুক্তভোগীদের সাথে প্রতারনা ও জালিয়াতি করে এবং সরকারের সাথেও জালিয়াতি করে, সরকারের চোখকে ফাকি দিয়ে কৌশলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। পাঠদান অনুমোদন বাবদ ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা, রেজি: বাবদ ১ লাখ থেকে ২ লাখ টাকা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠি বাবদ ৩ লাখ টাকা, স্কুল পরিদর্শন ও রিপোর্ট করানো বাবদ ৩ লাখ টাকা এভাবে ধাপে ধাপে সারা দেশে রান প্রতিষ্ঠিত ২০০ স্কুল থেকে কোটি কোটি টাকা লোপাট করে সারা দেশে তাদের জেলা ও আঞ্চলিক অফিস এবং ঢাকার মোহাম্মদপুর টাউন হলের পাশেই রান ডেভোলপমেন্ট সোসাইটির প্রধান কার্যালয় মদিনা ভিলা, ১৪/২৮ দ্বিতীয় তলা, শাহজাহান রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭ বিগত ৪-৫ বছর আগে তালা ঝুলিয়ে আত্মগোপনে আছে। যে সমস্ত  বিদ্যালয়সমূহের স্বীকৃতি ও এমপিওভূক্ত করবে মর্মে  ধাপে ধাপে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয় । সেসব বিদ্যালয় সমূহের তালিকা। ক্র: নং অনুযায়ী নাম ও ঠিকানা ১.আক্কেলপুর প্রতিবন্ধী স্কুল ও পূনর্বাসন কেন্দ্র, বিহারপুর, আক্কেলপুর, জয়পুরহাট। ২.আলমবিদিতর প্রতিবন্ধী ও অটিষ্টিক বিদ্যালয়, বিদিতর, গংগাচড়া, রংপুর। ৩.সোভা অটিষ্টিক ও বৃদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়, মাষ্টারপাড়া, দুপচাঁচিয়া, বগুড়া। 8.সালেহা মালেখ স্মৃতি অটিষ্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়, নওয়াপাড়া, মাগুরা সদর, মাগুরা। ৫.আর ইউ এন জমীর উদ্দিন মোল্যা মেমোরিয়াল অটিষ্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়, তেঘরিয়া, মাগুড়া সদর, মাগুরা। ৬.আর ইউ এন মদিন মিয়া স্মৃতি অটিষ্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়, পার লক্ষীপুর, আলমডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা। ৮.রান ডেভেলপমেন্ট ভাঙ্গুড়া অটিষ্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়, ভাঙ্গুড়া, মাগুরা সদর, মাগুরা। ৯.মেহের আলী শাহ স্মৃতি অটিষ্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়, রায়পুর, জীবননগর, চুয়াডাঙ্গা ১০.কালীগঞ্জ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়, দক্ষিণ দলগ্রাম, কালীগঞ্জ, লালমনিরহাট। ১১.বীরেন্দ্রনাথ অটিষ্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়, শালিখা, মাগুরা। ১২.খারুভাঁজ জে.এন.পি বৃদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিষ্টিক বিদ্যালয়, সারপুকুর, আদিতমারী, লালমনিরহাট। হরিশচন্দ্রপুর অটিষ্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়, শরিশচন্দ্রপুর, দামুড়হুদা, চুয়াডাঙ্গা। ১৩.হাজী আমজাদ হোসেন প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়, ঝিনাইদহ সদর, ঝিনাইদহ।১৪.জালমাছ মারী প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। ১৫.পলাশবাড়ী, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়, মুন্সীপাড়া, আমবাড়ি মোড়, সদর কুড়িগ্রাম। ১৬.কালাই অটিষ্টিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়, কালাই, জয়পুরহাট। নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা গেছে বর্তমানে গাউসুল আযম আবার তার চক্র নিয়ে সারা দেশে প্রতিবন্ধী স্কুলের স্বীকৃতি ও এমপিও করে দেবো বলে টাকা সংগ্রহের জন্য মাঠে নেমেছে। হতবাক হবার মতো বিষয় - সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টার সাথে বৈঠকের গত ২৩/০৭/২৫ তারিখের প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের ৪ সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধি দলের ১ নং সদস্য বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এবং রান ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির মহাসচিব গাউসুল আযম। হাজী আমজাদ হোসেন প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়, ঝিনাইদহ সদর, ঝিনাইদহ এর জমি দাতা ও সভাপতির ছেলে  উদ্যোক্তা মো: রেজাউল  সংবাদ মাধ্যমের সাক্ষাৎ কালে বলেন_ আমার প্রতিষ্ঠানকে পাঠদানের অনুমতির জন্য ৮৫০০০/- পচাশি হাজার টাকা   স্বীকৃতির জন্য দুই ( ২০০০০০ ) লাখ  ও এমপিওভূক্ত করে দেবার কথা বলে ৪১৫০০০/- চার লাখ পনেরো হাজার, সর্বমোট সাত লাখ টাকা গ্রহন করে। এরমধ্যে দুই লাখ পচাশি হাজার টাকা এস,এ,পরিবহনের মাধ্যমে এবং চার লাখ পনেরো হাজার টাকা নগদ ক্যাশ গ্রহন করে। উদ্যোক্তা মো: রেজাউল করিম আরও বলেন আমি বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় সমন্বয় পরিষদের মাননীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সকলের দৃষ্টি আকর্ষন করছি তারা যেনো বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি গাউসুল আজম শিমুকে সকল কাযক্রম থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন। মো: রেজাউল করিম বিনয়ের সাথে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন  এই প্রতারকে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় এনে  দেশের প্রতিবন্ধী স্কুলগুলোকে বাঁচানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম