কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : মো. মুনজুরুল ইসলাম
লোকসংগীতের বরেণ্য শিল্পী, ‘লালনকন্যা’ খ্যাত ফরিদা পারভীনকে কুষ্টিয়ার পৌর গোরস্তানে তাঁর বাবা–মায়ের কবরের পাশেই দাফন করা হয়েছে। রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা থেকে শিল্পীর মরদেহ বহনকারী ফ্রিজিং ভ্যান কুষ্টিয়া পৌর গোরস্তানে পৌঁছায়। বাদ এশা জানাজা শেষে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। শিল্পীর জানাজায় অংশ নেন জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন, কবি ও সমাজচিন্তক ফরহাদ মজহার, লালনগবেষক লালিম হক, লালন একাডেমির শিল্পীরা এবং কুষ্টিয়ার বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার শত শত মানুষ। গুড়িগুড়ি বৃষ্টির মাঝেও গোরস্তান ভরে ওঠে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার স্রোতে।শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনকালে কবি ফরহাদ মজহার বলেন, “ফরিদা পারভীন শুধু একজন শিল্পী নন। তিনি ফকির লালন শাহকে বিশ্বপরিচিত করেছেন। তাঁর কণ্ঠে লালনের গান প্রথমবার আমরা সাধকের বাণী হিসেবে উপলব্ধি করেছি। তাঁর চলে যাওয়া এক অপূরণীয় ক্ষতি। কুষ্টিয়া পৌর গোরস্তানের খাদেম নূর ইসলাম জানান, ফরিদা পারভীনের বাবা দেলোয়ার হোসেন ১৯৯৬ সালে মৃত্যুবরণ করলে তাঁকে এ গোরস্তানে দাফন করা হয়। পরে তাঁর মা রৌফা বেগমকেও একই স্থানে সমাহিত করা হয়। এবার তাঁদের পাশেই শায়িত হলেন কন্যা ফরিদা পারভীন। লোকসংগীতের কিংবদন্তি এই শিল্পী শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা ১৫ মিনিটে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তিনি স্বামী ও চার সন্তান রেখে গেছেন। ১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়ায় জন্ম নেন ফরিদা পারভীন। রাজশাহী বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে ১৯৬৮ সালে তাঁর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। স্বাধীনতার পর কুষ্টিয়ায় এসে লালনগীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে পড়েন। মোকছেদ আলী সাঁই, খোদা বক্স সাঁইসহ লালনের সরাসরি শিষ্যদের কাছ থেকে তালিম নিয়ে তিনি লালনের গানকে দেশ–বিদেশে ছড়িয়ে দেন। জাপান, সুইডেন, ডেনমার্ক, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বহু দেশে তিনি লালনগীতি পরিবেশন করে বাংলা লোকসংগীতকে বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দিয়েছেন। সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি একুশে পদক (১৯৮৭), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৩) এবং জাপানের ফুকুওয়াকা পুরস্কার (২০০৮) অর্জন করেন। বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গন আজ হারালো এক কিংবদন্তিকে। তবে তাঁর কণ্ঠে গাওয়া লালনগীতি চিরকাল বেঁচে থাকবে শ্রোতাদের হৃদয়ে।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |