কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম
ভোরের কুয়াশা কাটতে না কাটতেই নেমে এলো এক গভীর শোকের ছায়া। কুষ্টিয়া বাইপাস সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও গ্যাসবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী ও দুইজন পুরুষ। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য, শহরের কবুরহাট এলাকা থেকে ছেড়ে আসা সিএনজিটি বাইপাসে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা গ্যাস সিলিন্ডারবাহী একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। প্রচণ্ড আঘাতে সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তিন যাত্রী প্রাণ হারান। গুরুতর আহত আরও দুজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। আহতদের উদ্ধার করে পাঠানো হয় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল-এ। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম জানান, নিহতদের মরদেহ হাসপাতালে এসে পৌঁছেছে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
কুষ্টিয়া হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মো. আবু ওবায়েদ পাঁচজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি জব্দ করা হয়েছে। ট্রাকচালক পলাতক থাকলেও তাকে আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
মরদেহগুলো হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হলে সেখানে ছুটে যান কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ ইকবাল হোসেন। তিনি নিহতদের স্বজনদের সান্ত্বনা দেন এবং আহতদের চিকিৎসায় প্রশাসনের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। জেলা প্রশাসক বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।”
হাসপাতালের জরুরি বিভাগজুড়ে তখন স্বজনদের আহাজারি। কেউ হারিয়েছেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য, কেউবা প্রিয়জনকে। মুহূর্তেই আনন্দ-উৎসবের দিনটি পরিণত হয় শোকের দিনে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অতিরিক্ত গতি ও সড়কে অসতর্কতাই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল—নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে প্রয়োজন সচেতনতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতা। এক মুহূর্তের অসতর্কতা যে কত পরিবারকে নিঃস্ব করে দিতে পারে, কুষ্টিয়ার এই ট্র্যাজেডি তারই নির্মম উদাহরণ হয়ে রইল।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |