কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের যুগিয়া কদমতলা এলাকা—একটি শান্ত জনপদ, যেখানে হঠাৎ করেই নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তরুণ পার্থ (২২) এর নির্মম হত্যাকাণ্ডের এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো মেলেনি সুষ্ঠু বিচার। ফলে ক্ষোভ, হতাশা আর অনিশ্চয়তার ভারে দিন কাটছে তার পরিবার ও স্থানীয়দের।
গত ৭ মার্চ ২০২৬—একটি বিভীষিকাময় দিন। সেদিনই প্রাণ হারান মোঃ হেলাল উদ্দিনের ছেলে পার্থ। পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পরপরই তারা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে দ্বারস্থ হলেও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। প্রতিদিনই যেন দীর্ঘতর হচ্ছে অপেক্ষা, আরও গভীর হচ্ছে শোক।
নিহতের বাবা মোঃ হেলাল উদ্দিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,“আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। প্রতিটি দিন আমি অপেক্ষা করছি—কবে আমার সন্তানের হত্যার বিচার পাব।”
মা মোছা. পারুল বেগমের কণ্ঠে অসহায়ত্ব আর বেদনার প্রতিধ্বনি—“আমার ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এতদিনেও কোনো বিচার পাইনি। প্রতিদিন প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি, কিন্তু কোনো সাড়া নেই। একজন মায়ের জন্য এর চেয়ে বড় কষ্ট আর কী হতে পারে?”
বন্ধু সজীব আহমেদ স্মৃতিচারণ করে বলেন,“পার্থ ছিল খুবই শান্ত, ভদ্র স্বভাবের ছেলে। তার সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল না। এমন একটি ঘটনা আমাদের সবাইকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। আমরা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি চাই।”
স্বজনদের কণ্ঠেও একই দাবি। নিহতের আত্মীয় আকলিমা খাতুন বলেন,“এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না এমন ঘটনা ঘটেছে। আমাদের পরিবারের ওপর যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে। আমরা এই হত্যার সঠিক বিচার চাই।”
প্রতিবেশী জলি খাতুন জানান, ঘটনার দিন এলাকাজুড়ে হঠাৎ চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হলে ছুটে গিয়ে তারা এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হন।“এমন মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের এলাকায় আগে কখনো ঘটেনি,”—বলতে গিয়ে কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে তার।
এই হত্যাকাণ্ডে ২১ জনকে আসামি করা হলেও এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছে মাত্র দুজন। বাকি আসামিরা পলাতক। পরিবারের অভিযোগ, প্রশাসনের উদাসীনতার কারণেই আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। তাদের প্রশ্ন—“প্রশাসন চাইলে কি আসামিদের আটক করা সম্ভব নয়?”
স্থানীয় বাসিন্দারাও দ্রুত বিচারের দাবিতে সোচ্চার। তাদের মতে, এমন স্পর্শকাতর ঘটনায় তদন্তের ধীরগতি জনমনে উদ্বেগ ও প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। বিচারহীনতা দীর্ঘায়িত হলে তা সমাজে অপরাধপ্রবণতাকে উৎসাহিত করতে পারে বলেও আশঙ্কা তাদের।
পরিবার জানিয়েছে, তারা ন্যায়বিচারের দাবিতে নিরবচ্ছিন্নভাবে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনের পথেও হাঁটতে প্রস্তুত তারা। তাদের একটাই আকুতি—পার্থ হত্যার সুষ্ঠু বিচার।
এদিকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অগ্রগতির তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এলাকাজুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—এই হত্যাকাণ্ডের বিচার আদৌ হবে তো?
মানবাধিকার কর্মী ও সচেতন মহল মনে করছেন, একটি তরুণ প্রাণের এমন নির্মম পরিণতি যেন বিচারহীনতার অন্ধকারে হারিয়ে না যায়। দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।
পার্থের পরিবারের চোখে এখন একটাই স্বপ্ন—ন্যায়বিচার। সেই স্বপ্ন পূরণের অপেক্ষায় দিন গুনছে তারা, আর পুরো এলাকাবাসী তাকিয়ে আছে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দিকে।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |