কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বহলবাড়ীয়া ইউনিয়নের কেনাল পাড়া এলাকায় প্রায় দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়ক এখন স্থানীয় মানুষের দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগের প্রতীক। বহলবাড়ীয়া বাজার থেকে মিরপুর সড়কের সংযোগস্থলের মধ্যবর্তী ভাদুর বাড়ি থেকে আমিরের বাড়ি পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় প্রতিদিনই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাকে। বর্ষা মৌসুমে সেই দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি পরিণত হয় কাদা-পানির দুর্ভেদ্য পথে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, নারী, শিশু, বয়স্ক মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। অথচ দীর্ঘদিনেও সড়কটির স্থায়ী উন্নয়ন হয়নি। বর্ষাকালে কাদায় পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় স্বাভাবিক হাঁটাচলাই কঠিন হয়ে যায়। যানবাহন চলাচলও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহন থেকে শুরু করে কৃষিপণ্য বাজারজাত—সব ক্ষেত্রেই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।
বৃষ্টিতে বদলে যায় সড়কের চিত্র
স্থানীয়রা জানান, শুষ্ক মৌসুমে কোনোভাবে চলাচল করা গেলেও বর্ষা শুরু হলে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটে। বৃষ্টির পানি জমে কোথাও কোথাও তৈরি হয় কাদা ও গর্ত। পিচ্ছিল পথে চলাচল করতে গিয়ে পথচারীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা।
শুধু সাধারণ মানুষের চলাচল নয়, সড়কটির পাশে থাকা স্থানীয় মসজিদে মুসল্লিদের যাতায়াতেও দুর্ভোগ তৈরি হচ্ছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—একটি জনবহুল এলাকার মানুষের প্রতিদিনের চলাচলের এমন গুরুত্বপূর্ণ পথ বছরের পর বছর কাঁচা অবস্থায় পড়ে থাকবে কেন?
নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি, পরে নীরবতা
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে সড়কটি সংস্কারের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতির দৃশ্যমান বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবতার মধ্যে দীর্ঘদিনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, সড়কটির সংস্কারের দাবি নতুন নয়। তাহলে এত বছরেও কেন কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি? কোন দপ্তরের আওতায় সড়কটির উন্নয়ন হবে, প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ হয়েছে কি না, কিংবা প্রকল্প গ্রহণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্পষ্ট তথ্য চান তারা।
লিখিত আবেদন, এখন অপেক্ষা কার্যকর উদ্যোগের
দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান চেয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে সড়কটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত সংস্কার ও জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, শুধু আশ্বাস নয়—এবার সড়কটি সংস্কারে দৃশ্যমান ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে সড়কের প্রকৃত অবস্থা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করলে দীর্ঘদিনের এই জনদুর্ভোগের অবসান হতে পারে।
স্থানীয়দের ভাষায়, দুই কিলোমিটার এই কাঁচা সড়ক তাদের কাছে শুধু একটি রাস্তা নয়; এটি শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ও দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। তাই আর প্রতিশ্রুতি নয়, দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপ চান তারা।
এখন দেখার বিষয়, বহলবাড়ীয়ার এই দুই কিলোমিটার সড়ক নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ কতটা দ্রুত আসে—নাকি বর্ষা শেষে আবারও কেটে যাবে আরেকটি বছর, আর কাঁচা সড়কেই আটকে থাকবে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |