কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : মো. মুনজুরুল ইসলাম
“দুনিয়ার মজদুর এক হও, লড়াই কর”—এই শ্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠেছিল কুষ্টিয়ার মজমপুর গেট এলাকা। বাজারদরের সাথে সংগতি রেখে হোটেল সেক্টরের শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মূল মজুরি ৩০ হাজার টাকা ঘোষণার দাবিতে মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল শেষে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারী শ্রমিক ইউনিয়ন কুষ্টিয়া জেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে বক্তারা চাকরির নিশ্চয়তা, জীবনের নিরাপত্তা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা, নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান এবং ছাঁটাই, নির্যাতন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতি রমজান আলী বিশ্বাস এবং পরিচালনা করেন কোষাধ্যক্ষ মৃত্যুঞ্জয় পাল। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ কুষ্টিয়া জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও শ্রমিক নেতা পলান বিশ্বাস।
তিনি বলেন, “শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। সরকারের ঘোষিত মজুরি গেজেট দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। শ্রম আইন অনুযায়ী ৮ ঘণ্টা কর্ম নির্ধারণসহ শ্রমিকদের জন্য ৩০ হাজার টাকা মূল মজুরি কাঠামো গঠন এখন সময়ের দাবি।”
পলান বিশ্বাস আরও বলেন, “শ্রমিক কর্মচারিদের চাকরির নিশ্চয়তা ও বেতন কাঠামো সঠিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলমান থাকবে। শুধু মুখের কথা নয়, বাস্তবে এর প্রতিফলন ঘটাতে হবে। ক্ষমতাসীনরা সব সময় ক্ষমতায় থেকে যায়, আর নিরীহ শ্রমিকরা সব সময় অত্যাচারের শিকার হয়। এই বৈষম্য দূর করে মালিক-শ্রমিকের মধ্যে সুসম্পর্ক স্থাপন করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা না হলে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। সরকার বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হোটেল ও অন্যান্য খাতের শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করুক।”
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী মৃধা, সহ-সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান পারভেজ, সদস্য জনি ও রবিনসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
হোটেল শ্রমিক নেতারা বলেন, “৫ মে ২০২৫ সরকার ঘোষিত মজুরি গেজেট বাস্তবায়নের দাবি জানাই। গেজেট বাস্তবায়ন না হলে দেশব্যাপী ধর্মঘটের পথে অগ্রসর হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।” তারা শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দেন।
সমাবেশ শেষে শ্রমিকরা বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। মজমপুর গেট এলাকায় অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে ব্যাপক সংখ্যক শ্রমিকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |