কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : মো. মুনজুরুল ইসলাম
কুষ্টিয়া:ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আন্দোলনকারী ছাত্রীদের পোশাক নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক অধ্যাপক নাছির উদ্দীন মিঝির বরখাস্তের দাবি জানিয়েছেন।
অধ্যাপক নাছির উদ্দীন মিঝি আল-কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি ও জামায়াতপন্থী শিক্ষক সংগঠন গ্রিন ফোরামের সদস্য। জানা যায়, মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে “আবদুল্লাহ বিন আসাদ” নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে চার মিনিট সাত সেকেন্ডের একটি অডিও ক্লিপ প্রকাশ করা হয়। ওই অডিওতে নাছির উদ্দীনকে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে আন্দোলনকারী এক ছাত্রীকে শাসাতে এবং সাজিদ আবদুল্লাহ ও নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করতে শোনা যায়।
অডিওটি প্রকাশের পরপরই ক্যাম্পাসে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষকের বক্তব্যের নিন্দা ও বিচার দাবি করে পোস্ট দিতে শুরু করেন। পরদিন বুধবার সকালে শিক্ষার্থীরা প্রশাসন ভবনের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।
শিক্ষার্থীদের দাবিমানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কাছে পাঁচ দফা দাবিতে স্মারকলিপি জমা দেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—১. অধ্যাপক নাছির উদ্দীনকে অবিলম্বে বরখাস্ত করা,২. সাজিদ আবদুল্লাহ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার,৩. আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা,৪. শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদে বাধা প্রদানকারীদের উদ্দেশ্য যাচাই করে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন ও ব্যবস্থা গ্রহণ,৫. শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশ ও আন্দোলনের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষিত রাখা।
শিক্ষকের অবস্থান ও ক্ষমা প্রার্থনাঅডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অধ্যাপক নাছির উদ্দীন সাংবাদিকদের কাছে ঘটনাটিকে “স্লিপ অব টাং” বলে দাবি করেন। তিনি বলেন,
“আমি শহীদ সাজিদ আবদুল্লাহর জন্য বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলন করেছি। বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে এগিয়ে নিতে উপাচার্য, সহ-উপাচার্য ও থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু কথোপকথনের সময় অসাবধানতাবশত কিছু শব্দচয়নে ভুল হয়েছে। এজন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করছি।”
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়াশিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি গ্রহণের পর উপাচার্য অধ্যাপক নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন,
“ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষক যেন এ ধরনের মন্তব্য না করেন, সে বিষয়ে আমরা সচেতন থাকব। লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অডিও ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান রক্ষায় এবং নারী শিক্ষার্থীদের মর্যাদা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |