কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : মো. মুনজুরুল ইসলাম
কুষ্টিয়ার অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে যে শিল্প দীর্ঘদিন ধরে নীরব কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে এসেছে—সেই ইটভাটা শিল্প আজ গভীর সংকটের মুখে। পরিবেশগত বিধিনিষেধ, জ্বালানি সংকট, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক জটিলতায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ইটভাটা মালিকরা। একই সঙ্গে কাজ হারানোর শঙ্কায় অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে দিন কাটছে হাজারো শ্রমিকের।
জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ছড়িয়ে থাকা শত শত ইটভাটায় এখন নিস্তব্ধতা। নেই আগের মতো ধোঁয়ার কুণ্ডলী, জ্বলছে না চুল্লির আগুন। অনেক ভাটা পুরোপুরি বন্ধ, আবার কিছু ভাটা চলছে সীমিত পরিসরে। ফলে একদিকে ভাটা মালিকরা পড়ছেন চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে, অন্যদিকে শ্রমিক পরিবারগুলো পড়ছে জীবিকার অনিশ্চয়তায়।
ভাটা মালিকদের ভাষ্য, পরিবেশ রক্ষার নামে হঠাৎ করে কঠোর আইন প্রয়োগ, বৈধতা সংক্রান্ত জটিলতা এবং বিকল্প প্রযুক্তিতে রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার অভাব তাদেরকে গভীর সংকটে ঠেলে দিয়েছে। আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে যেতে তারা আগ্রহী হলেও উচ্চ ব্যয় এবং সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা না থাকায় তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।
অপরদিকে, ইটভাটায় কর্মরত শ্রমিকদের অবস্থাও করুণ। বছরের পর বছর এই পেশার সঙ্গে যুক্ত থেকেও বর্তমানে কাজ না থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে অনেককে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে অন্য জেলায় কাজের সন্ধানে পাড়ি জমাচ্ছেন, আবার কেউ পরিবার নিয়ে অনিশ্চয়তার অন্ধকারে দিন গুনছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ইটভাটা শিল্প পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া কোনো টেকসই সমাধান নয়। বরং পরিকল্পিতভাবে আধুনিকায়নই হতে পারে এর ভবিষ্যৎ পথ। পরিবেশ সংরক্ষণ ও শিল্প রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে সরকার, প্রশাসন ও ভাটা মালিকদের যৌথ উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন, সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা প্রদান এবং শ্রমিকদের জন্য পুনর্বাসন পরিকল্পনা গ্রহণ করা না হলে কুষ্টিয়ার ইটভাটা শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়বে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে জেলার নির্মাণ খাতসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতেও।
এখন সকলের প্রত্যাশা—সংকট উত্তরণে বাস্তবসম্মত ও মানবিক সমাধান। এমন একটি পথ, যেখানে বাঁচবে পরিবেশ, আবার টিকে থাকবে শিল্প ও শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকা।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |