কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : মো. মুনজুরুল ইসলাম
শিক্ষার আলোয় সমাজ গঠনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। এসএসসি-২০২৬ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ৪০ জন অস্বচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীর ফরম পূরণের সম্পূর্ণ অর্থ সহায়তা প্রদান করেছেন তারা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষা বিস্তারের পাশাপাশি মানবিক সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ) দুপুর ১২টার দিকে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সার্বিক ব্যবস্থাপক ও প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্কুলের প্রথম ব্যাচের (১৯৬৬) শিক্ষার্থী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও শিশু সংগঠক আশরাফ উদ্দিন নজু। বক্তব্যে তিনি বলেন,“আমার দীর্ঘদিনের সাধনা এই—তোমরা শুধু ভালো ফল করলেই হবে না, ভালো মানুষ হতে হবে। শিক্ষাক্ষেত্রে কুষ্টিয়ার উন্নতি মানেই সমাজের সর্বক্ষেত্রে উন্নতি।”
তিনি আরও বলেন, এই ফরম পূরণ সহায়তা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে যেন অন্যরাও তা দেখে অনুপ্রাণিত হয় এবং শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ায়। তাঁর ব্যাচের অনেক সহপাঠী ও পরবর্তী ব্যাচের বন্ধুরা আজ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠিত অবস্থানে রয়েছেন, তবুও তারা নিজ শিকড়কে ভুলে যাননি।
এই মহতী উদ্যোগে আরও যুক্ত ছিলেন প্রাক্তন শিক্ষার্থী মমিনুল আজম, শরফুদ্দিন আহম্মদ, আবু ফাতেহ ও আবুল হাসেম। তারা জানান, প্রতিবছরই অস্বচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের এভাবে সহযোগিতা করে যাওয়াই তাঁদের অঙ্গীকার।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করেন দশম শ্রেণির ছাত্র আহাদ হোসেন প্রিন্স এবং গীতা পাঠ করেন একই শ্রেণির ছাত্র মুগ্ধ যতি বিশ্বাস।
বাংলাদেশ বার্তা পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক আব্দুর রশিদ চৌধুরী-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মুন্সি কামরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ‘বিশ্বভরা প্রাণ’ সাহিত্য সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কবি তুলিকা বিশ্বাস।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সহকারী প্রধান শিক্ষক আমিরুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক মোল্লা মো. মাহাবুবুর রহমান ও মাইনুল হুসাইন। অনুষ্ঠানে স্কুলের শিক্ষকবৃন্দ, অভিভাবক ও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জীববিজ্ঞান বিষয়ের সিনিয়র শিক্ষিকা মোছা. মাহবুবা বেগম।
এ ধরনের উদ্যোগ কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করছে এবং অস্বচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |