| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও অর্থের অভাবে টিকে থাকার লড়াইয়ে কেবি পটারি

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 15-02-2026 ইং
  • 1288 বার পঠিত
কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও অর্থের অভাবে টিকে থাকার লড়াইয়ে কেবি পটারি
ছবির ক্যাপশন: কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও অর্থের অভাবে টিকে থাকার লড়াইয়ে কেবি পটারি

মো. মুনজুরুল ইসলাম, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:

বাংলার হাজার বছরের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও শিল্পরূপের অন্যতম ধারক মৃৎশিল্প। মাটির গন্ধে মিশে থাকা এই শিল্প শুধু নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী তৈরির মাধ্যম নয়, বরং গ্রামীণ জীবনের শৈল্পিক অভিব্যক্তি ও ইতিহাসের জীবন্ত দলিল। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় গড়ে উঠেছিল কুষ্টিয়া জেলার কুমার সম্প্রদায়ের স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান কেবি পটারি। তবে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি টিকে থাকার কঠিন সংগ্রামে লিপ্ত।

জেলার কুমারখালী উপজেলার কল্যাণপুর গ্রামে অবস্থিত এই মৃৎশিল্প কেন্দ্রটি বহু বছর ধরে দক্ষ কারিগরদের নিপুণ হাতে তৈরি করছে হাঁড়ি-পাতিল, থালা-বাটি, ফুলদানি ও দৃষ্টিনন্দন শোপিস। নান্দনিক কারুকাজে ভরপুর এসব পণ্য শুধু দেশীয় বাজারেই নয়, মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও রপ্তানি হচ্ছে, যা স্থানীয় শিল্প সম্ভাবনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

কেবি পটারির কারখানায় প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে প্রাচীন ঐতিহ্যের স্পর্শ। হাতে ঘোরানো চাক, দীর্ঘদিন ব্যবহৃত ভাটা এবং শ্রমিকদের ঘামঝরা পরিশ্রম যেন এই শিল্পের প্রাণ। তবে প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের এই সময়ে আধুনিক বৈদ্যুতিক চাক, উন্নত কিলন ও গ্লেজিং মেশিনের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে, যা বাজার প্রতিযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতাকে দুর্বল করে তুলছে।

প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী বটকৃষ্ণ পাল জানান, আধুনিক যন্ত্রপাতি যুক্ত করতে পারলে উৎপাদন কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেত এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতো। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে মৃৎপণ্যের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও ব্যাংক ঋণ কিংবা সরকারি সহায়তার অভাবে সেই সম্ভাবনা বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন।

তবে সব প্রতিকূলতার মধ্যেও কেবি পটারি হার মানেনি। প্রতিটি মৃৎপণ্যে এখনো ফুটে ওঠে শিল্পীর মননশীলতা, নান্দনিকতা এবং ঐতিহ্যের গভীর ছাপ। স্থানীয় কারিগররা বিশ্বাস করেন, উপযুক্ত সহায়তা পেলে এই শিল্প আবারও তার স্বর্ণালী ঐতিহ্য ফিরে পেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প রক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি। প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও সহজ ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এই শিল্প শুধু টিকে থাকবে না, বরং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

নইলে আধুনিকতার প্রতিযোগিতায় হারিয়ে যেতে পারে বাংলার এক সমৃদ্ধ শিল্প ঐতিহ্য, যা শুধু একটি পেশা নয়—একটি সংস্কৃতি, একটি ইতিহাস এবং একটি জীবন্ত শিল্পরূপের প্রতীক।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম