কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম
কৃষিই বাংলাদেশের প্রাণ। আর সেই কৃষিকে ভালোবেসে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মো. জাহাঙ্গীর আলম। পেশায় তিনি একজন চাকরিজীবী। কিন্তু কর্মজীবনের ব্যস্ততার মাঝেও মাটির টানে, সবুজের টানে বারবার ছুটে এসেছেন কৃষিক্ষেতে। তার এই সাহসী উদ্যোগ এখন কুষ্টিয়ার কৃষি অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
খোকসা উপজেলার মানিককাট গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম এর আগে পুকুরে মাছ চাষ, বিভিন্ন ফলের বাগানসহ নানা ধরনের কৃষি উদ্যোগ হাতে নিয়েছিলেন। তবে এবার তিনি মনোযোগ দিয়েছেন পেঁয়াজ চাষে। প্রাথমিকভাবে তিন বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করে তিনি এখন বাম্পার ফলনের আশায় বুক বেঁধেছেন।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তার জমিতে সারি সারি পেঁয়াজ গাছ বাতাসে দুলছে। সবুজে মোড়া সেই ক্ষেত যেন এক অনন্য দৃশ্য। গাছের স্বাস্থ্য ও গঠন দেখেই বোঝা যায়—নিবিড় পরিচর্যা ও সঠিক সময়ে সার প্রয়োগের সুফল মিলেছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই পেঁয়াজ উত্তোলন শুরু হবে বলে জানান তিনি।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “কৃষিতে আধুনিক পদ্ধতি, সময়মতো সার ও কীটনাশক ব্যবহার এবং নিয়মিত পরিচর্যা করলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। চাকরির পাশাপাশি পরিকল্পিতভাবে কাজ করলে কৃষিতেও সাফল্য আসবেই।”
তার এই সাফল্যের গল্প ইতোমধ্যে এলাকায় চাষিদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। অনেকেই তার জমি পরিদর্শনে এসে চাষপদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইছেন। স্থানীয় কৃষকরাও মনে করছেন, শিক্ষিত ও সচেতন মানুষ কৃষিতে এগিয়ে এলে উৎপাদন বাড়বে, বদলে যাবে গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্র।
মাটি, শ্রম আর স্বপ্ন—এই তিনের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে জাহাঙ্গীর আলমের পেঁয়াজ ক্ষেত। তার দৃঢ় প্রত্যয়, “যেমন কর্ম, তেমন ফল”—এই বিশ্বাসই তাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। যদি প্রকৃতি সহায় হয়, তবে এবার তার জমিতে হবে বাম্পার ফলন—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
চাকরিজীবী হয়েও কৃষিতে এমন নিবেদন ও সাফল্যের প্রত্যাশা সত্যিই অনুপ্রেরণার। জাহাঙ্গীর আলম প্রমাণ করেছেন—কৃষি শুধু পেশা নয়, এটি এক সম্ভাবনার নাম; যেখানে শ্রমের ঘাম একদিন সোনালি ফসল হয়ে ফিরে আসে।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |