কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম
ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাস, ট্রাক, সিএনজি, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। কোথাও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ তেল পাচ্ছেন না চালকরা। এতে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে পরিবহন শ্রমিক ও সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে।
রবিবার (১৫ মার্চ) দুপুরে শহরের কয়েকটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। অনেক পাম্পে তেল সরবরাহ সীমিত করে দেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও সম্পূর্ণ বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে।
শহরের মজমপুর এলাকার মেসার্স কুষ্টিয়া স্টোর ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকশ মোটরসাইকেল, পিকআপ, ট্রাক, দূরপাল্লার বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি তেল নেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছে। চালকদের অনেকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পরও প্রয়োজনীয় পরিমাণ তেল পাচ্ছেন না। অকটেন শেষ হয়ে যাওয়ায় মোটরসাইকেল চালকদের মাত্র ১০০ টাকার পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে বলে জানায় পাম্প কর্তৃপক্ষ।
তেল নিতে আসা এক মোটরসাইকেল চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কয়েকদিন ধরেই এই সমস্যায় পড়ছি। গতকালও ২০০ টাকার তেল দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু আজ বলছে ১০০ টাকার বেশি দেওয়া যাবে না।”
অন্যদিকে এই পাম্পের উল্টো পাশে অবস্থিত মেসার্স এম এ রাজ্জাক এন্ড সন্স ফিলিং স্টেশন-এ তেল না থাকায় বিক্রি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শহরের আরও কয়েকটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, জ্বালানি তেলের সরবরাহ না থাকায় অনেক পাম্পই কার্যত বন্ধ হয়ে আছে।
ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিপো থেকে তেল সরবরাহ না পাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে সীমিত আকারে তেল বিক্রি করছেন।মেসার্স এম এ রাজ্জাক এন্ড সন্স ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মাছুদুল হক জানান, “শনিবার তেল আনার জন্য গাড়ি খুলনায় পাঠানো হয়েছে। রোববার সিরিয়াল অনুযায়ী তেল লোড হওয়ার কথা। তেল আসা সাপেক্ষে সোমবার থেকে আবার স্বাভাবিকভাবে গ্রাহকদের জ্বালানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে।”
তবে অনেক গ্রাহকের অভিযোগ, জেলার কিছু পাম্প মালিকের কাছে পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তেল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ ও পরিবহন চালকদের দুর্ভোগ বাড়ছে।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই তপো বলেন, জেলার বেশিরভাগ পাম্পে তেলের মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে তেল আনার জন্য গাড়ি খুলনায় পাঠানো হয়েছে এবং সেখানে লোড পাওয়ার কথা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, “তেল আসার পর সোমবার থেকেই আবার গ্রাহক পর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।”
তিনি আরও জানান, ব্যাংক লেনদেনের সীমাবদ্ধতার কারণেও তেল উত্তোলনে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। ঈদযাত্রা সামনে রেখে খুলনা ডিপোর পাশের ব্যাংকগুলো খোলা থাকলে তেল উত্তোলন আরও সহজ হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে তেলের সংকট দ্রুত নিরসনের দাবি জানিয়েছেন পরিবহন চালক ও সাধারণ গ্রাহকরা। তাদের আশঙ্কা, সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে ঈদকে সামনে রেখে জেলার পরিবহন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |