| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

কুষ্টিয়া সুগার মিল চালু হলে ফিরবে সামাজিক ভারসাম্য, ঘুরবে অর্থনীতির চাকা

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 24-04-2026 ইং
  • 17856 বার পঠিত
কুষ্টিয়া সুগার মিল চালু হলে ফিরবে সামাজিক ভারসাম্য, ঘুরবে অর্থনীতির চাকা
ছবির ক্যাপশন: কুষ্টিয়া সুগার মিল চালু হলে ফিরবে সামাজিক ভারসাম্য, ঘুরবে অর্থনীতির চাকা

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম

এক সময় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতির প্রাণস্পন্দন ছিল কুষ্টিয়া সুগার মিল। ইক্ষুর সুবাসে মুখরিত জনপদ, কৃষকের স্বপ্ন, শ্রমিকের কর্মচাঞ্চল্য আর ব্যবসা-বাণিজ্যের অবিচ্ছেদ্য কেন্দ্র হিসেবে এই শিল্পপ্রতিষ্ঠান জুড়ে ছিল সমৃদ্ধির গল্প। কিন্তু দীর্ঘদিনের স্থবিরতায় সেই শিল্পনগরী আজ যেন স্মৃতির ভারে ন্যুব্জ। তবুও আশার আলো নিভে যায়নি—সচেতন মহলের বিশ্বাস, কুষ্টিয়া সুগার মিল পুনরায় চালু হলে শুধু একটি কারখানা নয়, পুনর্জীবন পাবে পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি ও সামাজিক ভারসাম্য।

এই শিল্প পুনরুদ্ধারের দাবিতে সরব রয়েছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আখতারুজ্জামান কাজল মজুমদার, কুষ্টিয়া সুগার মিল চালুকরণ কমিটির আহ্বায়ক আব্দুল মাজেদ, সাধারণ সম্পাদক মো. শিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ মিজানুর রহমানসহ অনেকেই নিরলসভাবে আন্দোলন-প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি চিনিকল কেবল চিনি উৎপাদনের কারখানা নয়; এটি কৃষি, পরিবেশ, জ্বালানি ও শিল্প অর্থনীতির এক সমন্বিত অবকাঠামো। ইক্ষু চাষ জমির উর্বরতা ধরে রাখতে সহায়ক, একই সঙ্গে বিস্তীর্ণ সবুজ ক্ষেত পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণ করে অক্সিজেন সরবরাহের মাধ্যমে প্রকৃতিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে ইক্ষু চাষ।

চিনিকল ঘিরে বহুমুখী শিল্প সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরছেন সংশ্লিষ্টরা। শুধু চিনি নয়, ইক্ষু থেকে উৎপাদন সম্ভব মোলাসেস, জৈব সার, পশুখাদ্য, কাগজ এবং বাগাসভিত্তিক বিদ্যুৎ। এমন বহুমাত্রিক উৎপাদন কাঠামো গড়ে উঠলে রাষ্ট্রীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে, কমবে আমদানি নির্ভরতা এবং বাড়বে টেকসই শিল্পায়নের গতি।

এক সময় কুষ্টিয়া সুগার মিলকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল বৃহৎ অর্থনৈতিক বলয়। কৃষক পেতেন ন্যায্যমূল্য, শ্রমিক পেতেন স্থায়ী কর্মসংস্থান, ব্যবসায়ী পেতেন লেনদেনের প্রাণচাঞ্চল্য। স্থানীয় বাজার, পরিবহন খাত, ক্ষুদ্র ব্যবসা—সবখানেই ছিল এই মিলের প্রত্যক্ষ প্রভাব। রাজস্ব ও ভ্যাট আয়ের ক্ষেত্রেও মিলটির অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।

স্থানীয়দের অভিমত, কুষ্টিয়া সুগার মিল পুনরায় চালু হলে হারানো কর্মসংস্থান ফিরবে, পুনর্জাগরণ ঘটবে গ্রামীণ অর্থনীতিতে। কৃষক আবারও ঝুঁকবেন ইক্ষু চাষে, শক্তিশালী হবে স্থানীয় উৎপাদননির্ভর অর্থনীতি। একই সঙ্গে কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী শিল্প পরিচিতিও ফিরে পাবে নতুন গৌরব।

সচেতন মহল মনে করে, আধুনিকায়ন, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে কুষ্টিয়া সুগার মিল আবারও হয়ে উঠতে পারে আঞ্চলিক অর্থনীতির চালিকাশক্তি। রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে এই শিল্প পুনর্জাগরণের এখনই উপযুক্ত সময়।

কুষ্টিয়ার মানুষের প্রত্যাশা আজ একটাই—বন্ধ কারখানার চিমনিতে আবার ধোঁয়া উঠুক, ইক্ষুর মাঠে ফিরুক প্রাণের সবুজ ঢেউ, আর কুষ্টিয়া সুগার মিল ঘুরিয়ে দিক স্থবির অর্থনীতির চাকা। কারণ এই মিল চালু হওয়া মানে শুধু একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পুনর্জন্ম নয়, এটি একটি অঞ্চলের স্বপ্ন ফেরার গল্প।



ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম