| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

কুষ্টিয়ার উদ্ভাবক মনিরুলের চমক ৫ লিটার পোড়া মবিলে মিলছে ৭ লিটার ডিজেল

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 03-05-2026 ইং
  • 16697 বার পঠিত
কুষ্টিয়ার উদ্ভাবক মনিরুলের চমক ৫ লিটার পোড়া মবিলে মিলছে ৭ লিটার ডিজেল
ছবির ক্যাপশন: কুষ্টিয়ার উদ্ভাবক মনিরুলের চমক ৫ লিটার পোড়া মবিলে মিলছে ৭ লিটার ডিজেল

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম

দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের টানাপোড়েনে যখন কৃষকের মুখে দুশ্চিন্তার ছায়া, ঠিক তখনই কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার এক নিভৃতচারী উদ্ভাবকের হাত ধরে উঠে এসেছে এক ব্যতিক্রমী সম্ভাবনার গল্প। ফেলে দেওয়া পোড়া মবিল থেকেই তৈরি হচ্ছে বিকল্প জ্বালানি—যা ইতোমধ্যে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে কৌতূহল ও আশার সঞ্চার করেছে।

উদ্ভাবক মনিরুল ইসলাম দাবি করেছেন, বিশেষ এক ধরনের ‘বুস্টার’ উপাদান ব্যবহার করে তিনি এমন একটি মিশ্রণ তৈরি করেছেন, যা ডিজেলচালিত ইঞ্জিনে ব্যবহারযোগ্য। তিনি এই উদ্ভাবনের নাম দিয়েছেন ‘মেথড অব অলটারনেটিভ ডিজেল’ বা সংক্ষেপে ‘ম্যাড’। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মাত্র পাঁচ লিটার পোড়া মবিলের সঙ্গে অতি সামান্য—প্রায় ১০০ মিলিগ্রাম—বুস্টার মিশিয়েই তৈরি হচ্ছে এমন জ্বালানি, যা কার্যক্ষমতায় প্রায় সাত লিটার ডিজেলের সমপরিমাণ কাজ দিচ্ছে।

মনিরুলের এই পথচলা নতুন নয়। ২০০৭ সাল থেকেই তিনি ডিজেল ইঞ্জিন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন। একসময় শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত থাকলেও গবেষণার নেশাই তাকে টেনে আনে ভিন্ন পথে। দেশ-বিদেশে, বিশেষ করে চীনে কাজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিনের সাধনায় সম্প্রতি তিনি তার উদ্ভাবনটির কার্যকর প্রয়োগে সফল হয়েছেন বলে জানান।

স্থানীয় কৃষক আকরাম হোসেনের কণ্ঠে শোনা যায় বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। তিনি বলেন, “এই জ্বালানি দিয়ে সেচের কাজ চালানো যাচ্ছে। খরচও কমছে, কাজও হচ্ছে ভালোভাবে।” কৃষকের এমন আশাবাদ গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন দিগন্তের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্কবার্তাও দিচ্ছেন। হোসেনাবাদ টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ফার্ম মেশিনারি বিভাগের প্রধান জাহিদুল হক বলেন, “উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ইঞ্জিনের ওপর এর প্রভাব কী হবে, তা নিশ্চিতভাবে জানতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন।”

এদিকে দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভিন জানিয়েছেন, কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে এই জ্বালানির কার্যকারিতা যাচাই চলছে। ফলাফল ইতিবাচক হলে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানোর ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, “বর্তমান জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের উদ্ভাবন অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

জ্বালানি সংকটের এই সময়ে কুষ্টিয়ার এক উদ্ভাবকের এমন উদ্যোগ যেন আশার প্রদীপ জ্বালিয়েছে। তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব যাচাইয়ের বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়—মনিরুলের এই উদ্ভাবন কেবল আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি সত্যিই দেশের কৃষি খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।



ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম