কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম
জাতীয় গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে আরও বেগবান করার প্রত্যয়ে কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শেখ জোয়াদ আলীর ২য় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক মনোজ্ঞ ও আবেগঘন আলোচনা সভা। সভা থেকে অপসংস্কৃতি পরিহার করে প্রগতিশীল, মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক ধারা গড়ে তোলার জোরালো আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুলতান আহম্মেদ। তিনি বলেন, “সংস্কৃতি একটি জাতির আত্মপরিচয়ের মূল ভিত্তি। এই ভিত্তিকে শক্তিশালী করতে হলে আমাদের সুস্থ ও প্রগতিশীল ধারার চর্চা জোরদার করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “জাতীয় গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে সম্মিলিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। অপসংস্কৃতির বিস্তার রোধ করে মানবিক, দেশপ্রেমমূলক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে এবং নতুন প্রজন্মকে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা আরও জোরদার করতে হবে।”
বিশেষ অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খন্দকার আব্দুল আওয়াল, আনোয়ার হোসেন, মুক্তারুল ইসলাম মুক্তি, গীতিকার আজব আলী এবং পলান বিশ্বাস। বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে শেখ জোয়াদ আলীর সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অনন্য অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাঁর আদর্শ ধারণ করে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বিশেষ অতিথি পলান বিশ্বাস বলেন, “ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি একটি আদর্শের নাম—যেখানে অসাম্প্রদায়িকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও মুক্তচিন্তার চর্চা হয়।” তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে অপসংস্কৃতি ও ভোগবাদী চিন্তার আগ্রাসনের মধ্যে এ ধরনের সংগঠনগুলো সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
খন্দকার আব্দুল আওয়াল বলেন, “যে সমাজে সংস্কৃতির চর্চা শক্তিশালী হয়, সেখানে অন্যায়, অবিচার ও কুসংস্কারের স্থান সংকুচিত হয়ে আসে। তাই তরুণ প্রজন্মকে বই, সাহিত্য, নাটক ও সংগীতচর্চায় সম্পৃক্ত করা জরুরি।”
গীতিকার আজব আলী ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদের কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, “গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই সাংস্কৃতিক জাগরণ সৃষ্টিতে সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে, যা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন স্মরণ সভা পালন কমিটির আহ্বায়ক মো. আব্দুর রশিদ। তিনি বলেন, “শেখ জোয়াদ আলী ছিলেন একজন সংগ্রামী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর স্বপ্ন ছিল একটি মানবিক ও মুক্তচিন্তার সমাজ, যেখানে সংস্কৃতি হবে সচেতনতার প্রধান হাতিয়ার।”
আলোচনা সভায় জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিল্পী, সাহিত্যিক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল গভীর আবেগ, স্মৃতিচারণ এবং প্রেরণার অনুরণন।
উল্লেখ্য, শেখ জোয়াদ আলী তাঁর সারাজীবন প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। তাঁর আদর্শ ও কর্মধারা আজও নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করছে এবং দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে রেখে যাচ্ছে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |