নিজস্ব প্রতিবেদক: খালিদ বিন শওকত
বাংলার মাটি ও মানুষের গান, লালনের দর্শন আর লোকসংগীতের চিরায়ত সুরকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরে সফল যুক্তরাজ্য (ইউকে) সফর শেষে দেশে ফিরেছেন কুষ্টিয়ার কন্যা, দেশের জনপ্রিয় লোকসংগীত ও লালনগীতি শিল্পী ডলি মন্ডল। তাঁর এই আন্তর্জাতিক সফর ও সাফল্যে আনন্দিত সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষ। একই সঙ্গে গর্বিত কুষ্টিয়াবাসীও।
সফরকালে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ নিয়ে ডলি মন্ডল পরিবেশন করেন বাংলার লোকসংগীত, লালনগীতি ও গ্রামীণ জীবনের সুরমাধুর্য। তাঁর কণ্ঠে বাংলার মাটির গানের আবেগ ও লালনের মানবতাবাদী দর্শন মুগ্ধ করে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ নানা শ্রেণি-পেশার শ্রোতাকে। তাঁর অনবদ্য পরিবেশনা বিদেশের মাটিতে বাংলা সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি হয়ে ধরা দেয়।
দীর্ঘ সফর শেষে দেশে ফেরার পর প্রিয় শিল্পীকে বরণ করে নিতে এগিয়ে আসে ‘ভাবের শহর’ পরিবার। ফুলেল শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় ডলি মন্ডলকে বরণ করে নেন পরিবারের সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। এ সময় তাঁকে ঘিরে তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ।
উপস্থিত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও শুভানুধ্যায়ীরা বলেন, ডলি মন্ডলের এই সাফল্য কেবল একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি বাংলার লোকসংগীত ও লালনসংস্কৃতিরও এক অনন্য সম্মান। তাঁর কণ্ঠে লালনের ভাবদর্শন ও বাংলার লোকজ জীবনের সুর যখন দেশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বের মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, তখন তা হয়ে ওঠে বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয়েরই এক গর্বিত বহিঃপ্রকাশ।
কুষ্টিয়ার মাটিতে জন্ম নেওয়া লালন ও লোকসংগীতের সুরকে হৃদয়ে ধারণ করে ডলি মন্ডল দীর্ঘদিন ধরে সংগীতচর্চা করে আসছেন। তাঁর কণ্ঠে বাংলার লোকগানের সহজিয়া আবেগ, মাটির গন্ধ ও মানবতার বার্তা শ্রোতাদের হৃদয়ে আলাদা আবেদন তৈরি করেছে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর এই পথচলা সেই ধারাকেই আরও সমৃদ্ধ করেছে বলে মনে করছেন সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা।
তাঁরা আরও বলেন, বাংলার লোকসংগীতের ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে ডলি মন্ডলের মতো শিল্পীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের হাত ধরেই লালনের দর্শন, বাউলিয়ানা ও বাংলার মাটির গান পৌঁছে যাচ্ছে বিশ্বের নানা প্রান্তে। এতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পরিচিতিও আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
ডলি মন্ডলের এই সাফল্যে কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সংগীতপ্রেমীরা তাঁকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, আগামী দিনেও তাঁর কণ্ঠে বাংলার লোকসংগীত ও লালনগীতির সুর ছড়িয়ে পড়বে বিশ্বময়; আর তাঁর শিল্পীসত্তার আলোয় আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |