কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার একটি বেসরকারি চক্ষু হাসপাতালের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল সংকট এবং অস্ত্রোপচার-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবারের দাবি, চিকিৎসায় অবহেলা ও ত্রুটির কারণে এক বৃদ্ধার চোখের দৃষ্টিশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে এক শিশুর চোখের চিকিৎসা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তার পরিবার। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
অভিযোগের সূত্র ধরে জানা গেছে, ১০ শয্যার অনুমোদনপ্রাপ্ত বিশ্বাস কমিউনিটি চক্ষু হাসপাতাল-এ প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক ও জনবল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাগজে-কলমে একাধিক চিকিৎসকের নাম থাকলেও নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দেন সীমিতসংখ্যক চিকিৎসক। এ ছাড়া অস্ত্রোপচারের সময় স্বীকৃত অ্যানেস্থেসিওলজিস্টের পরিবর্তে হাসপাতালের পরিচালক নিজেই রোগীকে অবশ করার ইনজেকশন দিয়েছেন—এমন অভিযোগও করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।
ডালিয়া খাতুন নামে এক রোগীর অভিযোগ, তাঁর ছানি অস্ত্রোপচারের সময় হাসপাতালের পরিচালক নিজেই অ্যানেস্থেসিয়া প্রয়োগ করেন। অস্ত্রোপচারের পরপরই তাঁর চোখে তীব্র ব্যথা ও রক্তক্ষরণ হয়। পরে ভুল পাওয়ারের লেন্স ব্যবহারের কারণে তাঁর চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র ও লেন্সের রসিদসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন কুমারখালীর বাসিন্দা লিটু। তাঁর দাবি, তাঁর বোন জামাইয়ের ছানি অস্ত্রোপচারের পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় নিয়ে যেতে হয়। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি প্রয়োজন বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে গত ২৯ জুলাই ১০ বছর বয়সী রশনি নামের এক শিশুর চোখের চিকিৎসা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, বিশ্বাস কমিউনিটি চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর শিশুটির চোখের অবস্থার অবনতি হলে তাকে কুষ্টিয়ার একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে দায়িত্ব পালনকারী একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শিশুটির আগের চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন বিশ্বাস কমিউনিটি চক্ষু হাসপাতালের পরিচালক মো. সুরুজ বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘আমি কোনো চিকিৎসক নই। অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। আমাদের হাসপাতালে ছানি অস্ত্রোপচার করেন ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন মিলন এবং অ্যানেস্থেসিয়ার দায়িত্ব পালন করেন ডা. খালেদ সাইফুল্লাহ।’
শিশু রশনির চিকিৎসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিশুটির চোখে আঞ্জনি হয়েছিল এবং সেটি ফেটে যাওয়ার কারণে রক্ত বের হয়। পরে চিকিৎসক তাকে পুনরায় দেখেছেন এবং বিষয়টি নিয়ে শিশুটির পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটের অভিযোগও অস্বীকার করেন সুরুজ বিশ্বাস। তাঁর দাবি, হাসপাতালে তিনজন চিকিৎসক ও ছয়জন ডিপ্লোমা নার্স রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন চিকিৎসক বর্তমানে ছুটিতে আছেন।
অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ডা. খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, সম্প্রতি সিভিল সার্জনের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালটির অপারেশন থিয়েটারে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আজই প্রথম এ বিষয়ে আমার সঙ্গে কথা হয়েছে। সরকারি দায়িত্বের বাইরে সময় মিললে আমি দায়িত্ব পালন করতে পারি। এর আগে ওই হাসপাতালে পরিচালিত কোনো অস্ত্রোপচার বা অ্যানেস্থেসিয়ার সঙ্গে আমি কোনোভাবেই যুক্ত ছিলাম না।’
এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো আমাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাল্টা বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, চিকিৎসাসেবার মান, হাসপাতালের অনুমোদন ও জনবল কাঠামো, অস্ত্রোপচার ব্যবস্থাপনা এবং অ্যানেস্থেসিয়া প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |