| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

কুষ্টিয়া চারুকলা সাংস্কৃতিক সংগঠনের কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণ দিবস উদযাপন

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 17-08-2026 ইং
  • 326 বার পঠিত
কুষ্টিয়া চারুকলা সাংস্কৃতিক সংগঠনের কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণ দিবস উদযাপন
ছবির ক্যাপশন: টেগোর লজে রবীন্দ্রনাথের ৮৫তম প্রয়াণ দিবস উদযাপন

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ার ঐতিহাসিক টেগোর লজে অনুষ্ঠিত হয়েছে আবেগঘন আলোচনা ও মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। চারুকলা সাংস্কৃতিক সংগঠন, কুষ্টিয়ার উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কবিগুরুর সাহিত্য, সংগীত, দর্শন ও মানবতাবাদী চেতনার নানা দিক উঠে আসে বক্তাদের আলোচনায়।

সন্ধ্যায় টেগোর লজের নান্দনিক ও ঐতিহাসিক পরিবেশে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভবের হাট সংস্থার জেলার সভাপতি ও বিশিষ্ট সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু। প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব পারভেজ মজমাদার।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কুষ্টিয়া সাহিত্য পরিষদ (কেএসপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, গল্পকার, কবি ও সংগঠক আসমান আলী রবীন্দ্রনাথের কালজয়ী সাহিত্যকর্মের তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ কেবল বাংলা সাহিত্যের কবি নন; তিনি বাঙালির মনন, মানবিকতা ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর সৃষ্টির আবেদন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে মানুষকে আলোর পথ দেখিয়ে চলেছে।

কবিগুরুর জীবন, দর্শন ও সাহিত্যকর্মের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন বিশিষ্ট লালন গবেষক এস এম রুশদি। বক্তব্য দেন কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা হাসপাতালের সমাজসেবা কর্মকর্তা আখিনুর রহমান এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), কুষ্টিয়ার প্রকৌশলী আকরামুজ্জামান।

স্বাগত বক্তব্যে চারুকলা সাংস্কৃতিক সংগঠন, কুষ্টিয়ার সভাপতি মৌসুমী আক্তার বলেন, রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে সাংস্কৃতিক চর্চার বিকল্প নেই। তাঁর গান, কবিতা ও সাহিত্য মানুষের হৃদয়ে যে মানবিকতার বোধ জাগায়, তা সমাজে সম্প্রীতি ও সৌন্দর্যের আবহ তৈরি করতে পারে।

আলোচনার পর শুরু হয় সাংস্কৃতিক পর্ব। শিল্পীরা পরিবেশন করেন রবীন্দ্রনাথের কালজয়ী গান; আবৃত্তিশিল্পীরা আবৃত্তি করেন তাঁর অমর কবিতা। রবীন্দ্রসুরের মূর্ছনা ও কবিতার ছন্দে ঐতিহাসিক টেগোর লজের প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে স্মৃতিময় ও আবেগঘন। উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারাও মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেন এ আয়োজন।

বক্তারা বলেন, রবীন্দ্রনাথের মহাপ্রয়াণের ৮৫ বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁর সৃষ্টির দীপ্তি এতটুকু ম্লান হয়নি। বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতির বিস্তৃত পরিসরে তিনি আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তাঁর মানবতাবাদী দর্শন বিভাজনের বিপরীতে মানুষকে ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও মুক্তচিন্তার পথ দেখায়।

আলোচনা, গান ও কবিতার মধ্য দিয়ে চারুকলা সাংস্কৃতিক সংগঠনের এ আয়োজন শেষ হয় কবিগুরুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে। ঐতিহাসিক টেগোর লজে রবীন্দ্রস্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি যেন আবারও মনে করিয়ে দিল—রবীন্দ্রনাথের প্রয়াণ আছে, কিন্তু তাঁর সৃষ্টির নেই কোনো প্রয়াণ; তিনি বাংলা সংস্কৃতির আকাশে চিরভাস্বর।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম