কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুন্ডি ইউনিয়নে বাণিজ্যিকভাবে পেঁপে চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখছেন রত্না নার্সারির উদ্যোক্তা। পরিকল্পিত পরিচর্যা, আধুনিক কৃষিপদ্ধতি এবং পরিশ্রমের সমন্বয়ে নার্সারিজুড়ে এখন শোভা পাচ্ছে সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলে থাকা সারি সারি পেঁপে। ফলন ও বাজারদর ভালো থাকায় এ চাষকে ঘিরে আশাবাদী উদ্যোক্তা ও স্থানীয় কৃষকেরা।
খলিসাকুন্ডি ইউনিয়নের রত্না নার্সারিতে ঢুকতেই চোখে পড়ে পেঁপে গাছের মনোরম দৃশ্য। কোনো গাছে কচি পেঁপে, আবার কোনো গাছে পরিপক্ব ফল। পরিচর্যায় গাছগুলোও সতেজ ও সবুজ। নার্সারির এ চিত্র শুধু সৌন্দর্যই ছড়াচ্ছে না, বরং কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার বার্তাও দিচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, পেঁপে তুলনামূলক স্বল্প সময়ে ফলন দেয় এবং সঠিক পরিচর্যা করা গেলে একটানা ভালো উৎপাদন পাওয়া সম্ভব। ফলে অনেকেই প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি পেঁপে চাষের দিকে আগ্রহী হচ্ছেন। রত্না নার্সারির উদ্যোগ এ অঞ্চলের কৃষকদের সেই আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
উদ্যোক্তা জানান, পেঁপে চাষে ভালো ফলন পেতে জমি নির্বাচন, পানি নিষ্কাশন, জৈব ও প্রয়োজনীয় সার প্রয়োগ, আগাছা দমন এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হয়। নিয়মিত পরিচর্যার পাশাপাশি গাছের গোড়ায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ায় ফলনও সন্তোষজনক হচ্ছে।
কৃষকেরা বলছেন, কৃষিতে লাভবান হতে হলে শুধু প্রচলিত ফসলের ওপর নির্ভর না করে চাহিদাসম্পন্ন বিকল্প ফসলের দিকেও নজর দিতে হবে। পেঁপে এমনই একটি ফসল, যার স্থানীয় বাজারে সারা বছরই চাহিদা রয়েছে। উৎপাদন খরচ ও বাজারমূল্যের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকলে এ চাষ কৃষকের আয়ের অন্যতম উৎস হতে পারে।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, উন্নত জাতের চারা নির্বাচন, সঠিক দূরত্বে রোপণ, সময়মতো সেচ ও সার প্রয়োগ এবং রোগবালাইয়ের যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে পেঁপে চাষে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে উৎপাদিত পেঁপের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে বাজার ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
রত্না নার্সারির পেঁপে চাষ তাই কেবল একটি কৃষি উদ্যোগ নয়; এটি স্থানীয় কৃষিতে সম্ভাবনার নতুন দুয়ারও খুলে দিচ্ছে। সঠিক পরামর্শ, কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে দৌলতপুরের খলিসাকুন্ডিতে পেঁপে চাষ আরও বিস্তৃত হবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয় কৃষকদের।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |