কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুরে সাংস্কৃতিক জাগরণ ও সামাজিক সচেতনতার প্রত্যয় নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদের উদ্যোগে এক প্রাণবন্ত মতবিনিময় সভা ও কমিটি গঠন অনুষ্ঠান। সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ,গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে বেগবান করা এবং সমাজ থেকে মাদক ও অপসংস্কৃতি নির্মূলে সাংস্কৃতিক চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরতেই এই আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আজবাহার আলী মাস্টার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার আহ্বায়ক ও গীতিকার আজব আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক পলান বিশ্বাস।
সভাপতির বক্তব্যে আজবাহার আলী মাস্টার বলেন,“সংস্কৃতি একটি জাতির আত্মপরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি। সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার মধ্য দিয়েই সমাজে মানবিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিকাশ ঘটে। নতুন প্রজন্মকে মাদক, সহিংসতা ও অপসংস্কৃতি থেকে দূরে রাখতে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ সেই লক্ষ্য নিয়েই মানুষের মাঝে সচেতনতা ও সৃজনশীলতার আলো ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছে।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে গীতিকার আজব আলী বলেন,“সংস্কৃতি একটি জাতির আত্মার প্রতিচ্ছবি। সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে সমাজে অসাম্প্রদায়িকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেম জাগ্রত করা সম্ভব। আমরা চাই, গ্রামবাংলার ঐতিহ্য, লোকসংস্কৃতি ও দেশীয় শিল্পচর্চা আরও বিকশিত হোক এবং তরুণরা অপসংস্কৃতি থেকে দূরে থেকে মানবিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠুক।”
বিশেষ অতিথি পলান বিশ্বাস বলেন,“সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা একটি জাতির আত্মপরিচয় ও মূল্যবোধকে সমৃদ্ধ করে। তরুণ প্রজন্মকে মাদক, সন্ত্রাস ও অপসংস্কৃতি থেকে দূরে রাখতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিকল্প নেই। ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ মানবিক, দেশাত্মবোধক ও সৃজনশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”
অনুষ্ঠানে বাহাদুরপুর, জুনিয়াদহ, মোকারিমপুর ও দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পী, নাট্যকর্মী, আবৃত্তিকার ও সংস্কৃতিমনা ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল সাংস্কৃতিক জাগরণ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও তারুণ্যের ইতিবাচক শক্তিকে কাজে লাগানোর দৃঢ় প্রত্যয়।
সভায় নবপ্রতিভা নাট্যগোষ্ঠীর পরিচালক ও সাংবাদিক রাজু আহমেদ বলেন,“বর্তমান সময়ে সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার অভাবে যুব সমাজের একটি অংশ মাদক ও অপরাধের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। মাদক দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য তরুণদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে এবং মাদককে দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলতে হবে।”
বক্তারা আরও বলেন, নাটক, গান, আবৃত্তি ও সামাজিক সচেতনতামূলক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড মানুষের মধ্যে মানবিকতা, দেশপ্রেম ও সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে। একটি সচেতন, সুন্দর ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সংস্কৃতিচর্চার কোনো বিকল্প নেই।
অনুষ্ঠান শেষে দেশ, সমাজ ও আগামী প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সুস্থ সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। প্রাণবন্ত এ আয়োজন উপস্থিত অতিথি, শিল্পী ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |