কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম
মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি কিংবা কিশোর গ্যাং—অপরাধের ধরন ভিন্ন হলেও সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্নে এগুলোর প্রভাব অভিন্ন। এসব অপরাধের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এবার মাঠপর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থানা। একই সঙ্গে ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং বিদ্যুৎ অপচয় রোধেও জনগণকে সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভেড়ামারা থানার উদ্যোগে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের কুচিয়ামোড়া বাজারে অনুষ্ঠিত বিট পুলিশিং মিটিংয়ে এসব বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান।
সভাটি কেবল আনুষ্ঠানিক বৈঠকে সীমাবদ্ধ না রেখে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে পুলিশের সরাসরি যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের ক্ষেত্র তৈরি করে। অপরাধ প্রতিরোধে জনগণের তথ্য ও সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি এলাকায় কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর বিষয়ে সচেতন করা হয়।
অপরাধ প্রতিরোধে দরকার সামাজিক প্রতিরোধ
মাদক ও সন্ত্রাসের বিস্তার একটি এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে নষ্ট করে দিতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় চাঁদাবাজি, ইভটিজিং এবং কিশোর গ্যাংয়ের মতো সামাজিক অস্থিরতা। এসব প্রবণতা শুরুতেই প্রতিহত করতে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয় বিট পুলিশিং সভায়।
বিশেষ করে কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সমাজের দায়িত্বের বিষয়টিও সামনে আসে। কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা কিংবা ইভটিজিংকে ‘ছোটখাটো ঘটনা’ হিসেবে এড়িয়ে না গিয়ে শুরুতেই প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।
বাল্যবিবাহ বন্ধেও সচেতনতার ডাক
সভায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ের মতো সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে পরিবার ও স্থানীয় জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বাল্যবিবাহ বন্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের সক্রিয় ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়।
বিদ্যুৎ অপচয় রোধেও জনসচেতনতা
অপরাধ প্রতিরোধের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও অপচয় রোধেও জনগণকে সচেতন করা হয়। প্রয়োজন ছাড়া বৈদ্যুতিক বাতি, ফ্যান ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চালু না রাখা এবং ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
পুলিশের এ ধরনের বিট পুলিশিং কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য—আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে জনগণের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসা এবং অপরাধ প্রতিরোধে স্থানীয় মানুষকে অংশীদার করা। কুচিয়ামোড়া বাজারের এ সভার মধ্য দিয়ে সেই জনসম্পৃক্ততার বার্তাই আরও স্পষ্ট হয়েছে।
অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান যেমন প্রয়োজন, তেমনি অপরাধের বিরুদ্ধে মানুষের নীরবতা ভাঙাও জরুরি—কুচিয়ামোড়ার বিট পুলিশিং সভায় সেই সামাজিক দায়িত্বের কথাই সামনে এসেছে।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |