কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম
কুষ্টিয়ার গড়াই নদীতে বসেছে গ্রামবাংলার চিরচেনা ঐতিহ্যের বর্ণিল আসর। নদীর বুকে সারি সারি নৌকা, মাঝিদের ছন্দময় বৈঠার টান আর তীরে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষের উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে গড়াই যেন পরিণত হয়েছে উৎসবের মঞ্চে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা-২০২৬’।
দুপুর গড়াতেই গড়াই নদীর দুই তীরে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের ভিড়। দূর-দূরান্ত থেকে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সী মানুষ ছুটে আসেন ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিযোগিতা দেখতে। নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে কেউ মোবাইল ফোনে ধারণ করেন নৌকা বাইচের দৃশ্য, কেউবা প্রিয় দলকে উৎসাহ দিতে উচ্ছ্বাসে মাতেন।
প্রতিযোগিতা শুরু হতেই মুহূর্তে বদলে যায় গড়াইয়ের চিত্র। বাঁশি ও ঢোলের তালে তালে মাঝিদের একযোগে বৈঠা চালানোর দৃশ্য তৈরি করে এক অন্যরকম আবহ। পানির বুক চিরে দ্রুতগতিতে ছুটে চলে প্রতিযোগিতার নৌকা। এক নৌকাকে পেছনে ফেলে অন্য নৌকার এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তীরজুড়ে ওঠে করতালির ঢেউ।
নৌকা বাইচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি বাংলার নদীকেন্দ্রিক লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অন্যতম অনুষঙ্গ। একসময় দেশের বিভিন্ন নদ-নদীতে নিয়মিত নৌকা বাইচের আয়োজন হলেও আধুনিকতার বিস্তারে এ ধরনের আয়োজন অনেকটাই কমে এসেছে। ফলে গড়াই নদীতে এমন আয়োজন স্থানীয় মানুষের মধ্যে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার করেছে।
দর্শনার্থীরা বলেন, নৌকা বাইচ দেখতে এসে তাদের শৈশবের গ্রামীণ বাংলার নানা স্মৃতি মনে পড়ে গেছে। নদী ও নৌকাকে ঘিরে আবহমান বাংলার যে সংস্কৃতি, এমন আয়োজনের মধ্য দিয়ে সেটিই যেন আবার জীবন্ত হয়ে ওঠে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি তুলে ধরা এবং নদীকেন্দ্রিক লোকজ ঐতিহ্য সংরক্ষণের লক্ষ্যেই এ আয়োজন। ভবিষ্যতেও আরও বড় পরিসরে এমন আয়োজন করার প্রত্যাশা রয়েছে তাদের।
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার আগ পর্যন্ত গড়াই নদীতে চলে প্রতিযোগিতার উত্তেজনা। বৈঠার ছন্দ, মাঝিদের হুংকার আর দর্শকদের করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে নদীর দুই পাড়। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
দিন শেষে গড়াইয়ের জল আবার শান্ত হয়েছে। কিন্তু নদীর পাড়ে পড়ে থাকে উৎসবের রেশ—বৈঠার ছন্দ আর হাজারো মানুষের উচ্ছ্বাস যেন বলে যায়, নদী বেঁচে থাকলে বেঁচে থাকবে বাংলার নৌকা বাইচের ঐতিহ্যও।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |