| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় ফের বাজবে লালনের মানবতার সুর

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 24-09-2026 ইং
  • 426 বার পঠিত
কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় ফের বাজবে লালনের মানবতার সুর
ছবির ক্যাপশন: ১৩৬তম তিরোধান দিবস ঘিরে প্রস্তুতি শুরু—১৭ থেকে ১৯ অক্টোবর মেলা, একতারার সুরে মুখর হবে লালন আখড়া

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম

‘সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে’—শতবর্ষ পেরিয়েও ফকির লালন শাহের এই প্রশ্ন যেন আজও সমাজের সামনে এক অমোঘ আয়না। জাত-পাত, ধর্ম-বর্ণ ও বিভেদের দেয়াল পেরিয়ে যে সাধক মানুষকে দেখেছিলেন কেবল মানুষ হিসেবে, তাঁর সেই মানবতার দর্শনকে স্মরণ করে আবারও মুখর হতে যাচ্ছে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়া। ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে লালন আখড়াবাড়িতে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। আগামী ১৭, ১৮ ও ১৯ অক্টোবর তিন দিনব্যাপী বসবে লালন শাহের তিরোধান দিবসের মেলা।

লালনের কণ্ঠ থেমেছে ১৩৬ বছর আগে। কিন্তু তাঁর গান থামেনি, থামেনি মানুষের অন্তর্গত সত্যকে খুঁজে ফেরার আহ্বান। একতারা, দোতারা আর মরমি সুরের ভেতর দিয়ে আজও তিনি প্রশ্ন তোলেন মানুষের পরিচয়, আত্মপরিচয় ও বিভেদের রাজনীতি নিয়ে। তাই প্রতিবছর তিরোধান দিবস এলেই ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়ি পরিণত হয় দেশ-বিদেশের লালনভক্ত, সাধু-বাউল ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের মিলনমেলায়।

তিরোধান দিবসের আয়োজনকে সামনে রেখে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রস্তুতি সভা। সভায় মেলার সার্বিক ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, যাতায়াত, অনুষ্ঠানস্থলের শৃঙ্খলা এবং বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে লালনের জীবন, সাধনা, দর্শন ও মানবতাবাদী চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবছরের মতো এবারও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লালনভক্ত ও সাধু-বাউলদের সমাগম ঘটবে ছেঁউড়িয়ায়। আখড়াবাড়ির চারপাশজুড়ে ভেসে উঠবে একতারার টুংটাং, দোতারার মূর্ছনা আর বাউলগানের সুর। রাত গভীর হলে সাধুদের আসরে লালনের গান ও দর্শন নিয়ে চলবে ভাবের আদান-প্রদান। মরমি সাধকদের পদচারণায় কয়েক দিনের জন্য ছেঁউড়িয়া হয়ে উঠবে বাংলার লোকসংস্কৃতির এক জীবন্ত পাঠশালা।

লালনের দর্শনের কেন্দ্রে ছিল মানুষ। তাঁর গানে যেমন আত্মসন্ধান, তেমনি রয়েছে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের বিরুদ্ধে গভীর মানবিক বোধ। ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’—এই দর্শনই তাঁকে কেবল একজন বাউল সাধক নয়, বাংলা সংস্কৃতির এক অনন্য মানবতাবাদী দার্শনিকের মর্যাদা দিয়েছে। তাঁর গান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিয়ে চলেছে অসাম্প্রদায়িকতা, সহমর্মিতা ও আত্মঅন্বেষণের বার্তা।

ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়া তাই শুধু একটি স্মৃতিবিজড়িত স্থান নয়; এটি বাংলার মরমি সংস্কৃতি ও মানবতাবাদী দর্শনের এক গুরুত্বপূর্ণ তীর্থভূমি। তিরোধান দিবসের মেলা ঘিরে প্রতিবছর যে বিপুল মানুষের সমাগম ঘটে, সেখানে ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে মানুষের পরিচয়, সুরের ভাষা আর সাধনার বন্ধন।

লালন নেই—আছে তাঁর গান। তাঁর দেহ নেই—আছে দর্শন। সময় বদলেছে, বদলেছে মানুষের জীবনযাপন; কিন্তু লালনের প্রশ্নগুলো আজও পুরোনো হয়নি। তাই ১৩৬তম তিরোধান দিবসে ছেঁউড়িয়ায় যখন আবার একতারার তার কেঁপে উঠবে, তখন সেই সুরে শুধু একজন সাধককে স্মরণ করা হবে না—পুনরুচ্চারিত হবে মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার এক চিরন্তন আহ্বান।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম