কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম
ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর ভক্তদের উলুধ্বনিতে মুখরিত পূজামণ্ডপ। উৎসবের রঙিন দিনগুলো শেষে চারদিকে বিষাদের সুর। হাজারো ভক্তের চোখে অশ্রু, হৃদয়ে বিদায়ের বেদনা। বিসর্জনের মধ্য দিয়ে মর্ত্যলোক ছেড়ে কৈলাসে ফিরে গেলেন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আরাধ্য দেবী দুর্গা। আনন্দ-উৎসবের পরিসমাপ্তিতে ভক্তদের কণ্ঠে উচ্চারিত হলো—‘আসছে বছর আবার হবে’। এই আবেগঘন পরিবেশের মধ্যেই কুষ্টিয়ায় শারদীয় দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরএম) খন্দকার রফিকুল ইসলাম, বিপিএম, পিপিএম কুষ্টিয়া মডেল থানাধীন বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম এবং জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদ বিন-হাসান।
পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত আইজিপি পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা ঘুরে দেখেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তদের সঙ্গে দুর্গোৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করেন। উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদ্যাপনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।
একই সঙ্গে মণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা পর্যালোচনা করেন এবং দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের সততা, নিষ্ঠা ও সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। উৎসবকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ ও স্থানীয় পূজা উদ্যাপন কমিটির গৃহীত নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করে অতিরিক্ত আইজিপি ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাইকে শারদীয় দুর্গাপূজার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও পারস্পরিক সম্প্রীতি অটুট রেখে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব উদ্যাপনের আহ্বান জানান।
এ সময় জেলা পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, স্থানীয় পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতারা এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
দেবীর বিদায়ে ভক্তদের মনে যেমন বিষাদের ছায়া, তেমনি আগামী বছরের আগমনী বার্তার অপেক্ষাও শুরু হয়েছে। বিসর্জনের জলে ভেসে যাওয়া প্রতিমার সঙ্গে শেষ হয়েছে এবারের শারদীয় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা; তবে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও মিলনের যে বার্তা দুর্গোৎসব দিয়ে যায়, তা মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে আগামী দিনগুলোতেও।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |