কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম
গ্রামবাংলার মাটি, মানুষের জীবন আর লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে মিশে আছে ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা। ঢোলের তালে তালে লাঠির ঘূর্ণন, ক্ষিপ্র পদচারণা আর লাঠিয়ালদের শৈল্পিক কসরতে মুখর হয়ে উঠেছিল কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতলী ইউনিয়ন। শত বছরের ঐতিহ্য ও গ্রামীণ সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে সেখানে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা। এতে অংশ নেন শত শত লাঠিয়াল। তাঁদের নৈপুণ্য, সাহস ও কৌশল দেখতে ভিড় করেন নানা বয়সী মানুষ।
লাঠিখেলা কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি বাংলার গ্রামীণ জনপদের ঐতিহ্য, শৌর্য-বীর্য ও লোকজ সংস্কৃতির এক অনন্য স্মারক। একসময় গ্রামবাংলার বিভিন্ন উৎসব, মেলা ও সামাজিক আয়োজনে লাঠিখেলার আসর ছিল অন্যতম আকর্ষণ। সময়ের পরিবর্তনে আধুনিক বিনোদনের নানা মাধ্যমের ভিড়ে এই ঐতিহ্যবাহী খেলা অনেক জায়গায় হারিয়ে যেতে বসেছে। এমন বাস্তবতায় বটতলী ইউনিয়নে তিন দিনব্যাপী এই আয়োজন স্থানীয় মানুষের মধ্যে নতুন করে উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
খেলার মাঠে লাঠিয়ালদের দৃষ্টিনন্দন কসরত, প্রতিপক্ষের আঘাত ঠেকানোর কৌশল এবং দ্রুত লাঠি ঘোরানোর দক্ষতা দর্শকদের মুগ্ধ করে। প্রতিটি মুহূর্তে ছিল উত্তেজনা, আনন্দ আর শেকড়ের সংস্কৃতির প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রকাশ। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রবীণ দর্শক—সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে আয়োজনটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।
লাঠিখেলার সঙ্গে জড়িয়ে আছে গ্রামবাংলার মানুষের ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা, পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়ার ইতিহাস। এই খেলার মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার হারিয়ে যেতে বসা লোকজ ঐতিহ্য তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে লাঠিয়ালদের শারীরিক দক্ষতা, মনোযোগ, শৃঙ্খলা ও কৌশল প্রদর্শনেরও ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে এমন আয়োজন অব্যাহত থাকলে গ্রামীণ সংস্কৃতির প্রতি তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ বাড়বে বলে মনে করছেন সংস্কৃতিপ্রেমীরা। তাঁদের মতে, ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলাকে টিকিয়ে রাখতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, নতুন লাঠিয়াল তৈরি এবং সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। পাশাপাশি এ ধরনের লোকজ আয়োজনকে স্থানীয় উৎসব ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির অংশ করা গেলে ঐতিহ্য সংরক্ষণে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বটতলীর তিন দিনের এই লাঠিখেলা তাই নিছক একটি ক্রীড়া আয়োজন নয়; বরং গ্রামবাংলার শেকড়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের পরিচয় ঘটানোর এক প্রাণবন্ত প্রয়াস। লাঠির প্রতিটি ঘূর্ণনে, ঢোলের প্রতিটি তালে যেন উচ্চারিত হয়েছে বাংলার চিরচেনা সংস্কৃতির আহ্বান—ঐতিহ্য বাঁচুক, লোকজ সংস্কৃতি বেঁচে থাকুক প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |