কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বর্তমানে অত্যন্ত দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছে। বিজিবির সাহসিক নেতৃত্ব, পেশাদারিত্ব এবং নিরলস প্রচেষ্টার কারণে সীমান্ত এলাকাগুলোতে এখন বিরাজ করছে এক অভূতপূর্ব শান্তি ও স্বস্তির পরিবেশ।
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতেও বিজিবি রাখছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, অনুপ্রবেশ ও অপরাধ দমনে বিজিবির সদস্যরা দিনরাত টহল দিচ্ছেন নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে।
বিজিবির এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে মহাপরিচালকের সাহসিক নেতৃত্ব ও দূরদর্শী পরিকল্পনা। সীমান্ত সুরক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং জনসম্পৃক্ততার সমন্বয়ে বিজিবি গড়ে তুলেছে এক শক্তিশালী ও জনবান্ধব নিরাপত্তা বলয়।
বর্তমান বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, ওএসপি, বিএসপি, এসইউপি, বিজিবিএম, এনডিসি, পিএসসি, এমফিল-এর নেতৃত্বে সীমান্ত এলাকায় আগের মতো অঘটনের খবর এখন আর শোনা যায় না।বিশেষ করে কুষ্টিয়া জেলার সীমান্ত অঞ্চলগুলো, যেখানে অতীতে চোরাচালান, মাদক ও মানবপাচারের মতো ঘটনা ঘটত, সেখানে এখন শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিজিবির কঠোর নজরদারি, টহল বৃদ্ধি ও জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপনের ফলে সীমান্তে এখন বিরাজ করছে স্থিতিশীলতা ও আস্থা।
মেজর জেনারেল আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর দূরদর্শী নেতৃত্বে বিজিবি এখন আরও আধুনিক, দক্ষ ও জনবান্ধব বাহিনীতে রূপ নিচ্ছে। তিনি সেনাসদরে সামরিক প্রশিক্ষণ পরিদপ্তরের পরিচালক, ৯ আর্টিলারি ব্রিগেড এবং ১৭ পদাতিক ডিভিশনের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। সীমান্ত নিরাপত্তায় তার কৌশলগত চিন্তা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনা বিজিবিকে দিয়েছে নতুন গতি।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দেশের সার্বিক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।২০২৪ সালের ২৩ জুন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও দক্ষতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তায় বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম এখন জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম স্তম্ভে পরিণত হয়েছে।
বর্ডার এলাকায় শান্তিপূর্ণ চাষাবাদে বিজিবির ভূমিকা অতুলনীয়।বিশেষ করে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তঘেঁষা ধর্মদহ গ্রামে এখন চলছে শান্তিপূর্ণ চাষাবাদ। সীমান্তবাসীরা নির্ভয়ে মাঠে কাজ করছেন, নিরাপদে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নান্টু মেম্বার বলেন,“বর্ডারের কোল ঘেঁষে আমাদের জমিতে আমরা নিশ্চিন্তে আবাদ করি। বিজিবির টহল জোরদারের কারণে ভারতীয় বিএসএফ সদস্যরা কোনো রকম সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে না। বিজিবির সহযোগিতায় আমরা এখন নিরাপদে চাষাবাদ করতে পারছি।”
তিনি আরও বলেন,“প্রতি বছরের মতো এবারও সীমান্তের পাশে ভালো ফসল উৎপাদন করেছি। কোনো সমস্যা দেখা দিলেই বিজিবির সদস্যরা দ্রুত ব্যবস্থা নেন। তাদের তৎপরতার কারণেই সীমান্তে এখন শান্তি বিরাজ করছে।”
ধর্মদহ গ্রামের বাসিন্দা জবেদ আলী জানান,“বিজিবির সঠিক নেতৃত্বের কারণেই আমরা এখন শান্তিতে বসবাস করছি। অতীতের তুলনায় এখন সীমান্তে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর নেই। আগের সরকার আমলেও এতটা নিরাপদ পরিবেশ ছিল না। তাই আমরা বিজিবি মহাপরিচালককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”
স্থানীয়দের মতে, বিজিবির দৃঢ় নেতৃত্ব, আধুনিক ব্যবস্থাপনা ও সেনাপ্রধানের সার্বিক তত্ত্বাবধানের ফলেই সীমান্তে আজ শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।কৃষকরা নির্বিঘ্নে মাঠে কাজ করছেন, শিশুরা ভয়হীনভাবে স্কুলে যাচ্ছে। কোনো ভয়-ভীতি বা আতঙ্ক ছাড়াই সীমান্ত জনপদের মানুষ এখন নিশ্চিন্তে দিন কাটাচ্ছেন।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,“বিজিবির টহল ও দায়িত্বশীল আচরণের কারণে এখন আমরা অনেক নিরাপদে বসবাস করছি। সীমান্তে আগের মতো কোনো উত্তেজনা নেই।”
বিজিবির এই প্রশংসনীয় ভূমিকা কেবল সীমান্ত সুরক্ষায় নয়, দেশের সার্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।সরকারের নীতিগত দিকনির্দেশনা ও সেনাপ্রধানের তত্ত্বাবধানে বিজিবি আজ এক আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে দেশের সীমান্ত জনপদে।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |