কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : মো. মুনজুরুল ইসলাম
কুষ্টিয়া পৌর এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিয়ে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ যেন দিনদিন আরও প্রকট হচ্ছে। পৌরসভার পানি সরবরাহে বারবার ব্যর্থতার কারণে নাগরিকরা বাধ্য হয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ডিপ টিউবওয়েল (সাবমারসিবল পাম্প) স্থাপন করে পানি সংগ্রহ করছেন। কিন্তু তাতেও মিলছে না মুক্তি—উল্টো যোগ হয়েছে নতুন ভোগান্তি। নিজস্ব অর্থে টিউবওয়েল স্থাপন করলেও পৌরসভার পক্ষ থেকে এখন মাসিক বিলের বোঝা চাপানো হয়েছে এলাকাবাসীর ঘাড়ে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টিউবওয়েল স্থাপনের সময় পৌরসভাকে এককালীন মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়। ১.৫ থেকে ২ ইঞ্চি পাইপের জন্য ২০ হাজার, ৩ থেকে ৪ ইঞ্চি পাইপের জন্য ৫০ হাজার এবং ৫ থেকে ৬ ইঞ্চি পাইপের জন্য আদায় করা হয় এক লাখ টাকা পর্যন্ত। এরপরও প্রতি মাসে নিচতলার জন্য ৪০০ টাকা এবং বহুতল ভবনের প্রতি ইউনিটে ২০০ টাকা করে বিল দিতে হচ্ছে। এতে ক্ষুব্ধ নাগরিকরা বলছেন—পৌরসভার পানি ব্যবহার না করেও বিল দিতে হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অবিচার ও অযৌক্তিক। স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা নিজের টাকায় টিউবওয়েল বসিয়েছি, বিদ্যুতের বিলও নিজেরা দিই—তারপরও পৌরসভা থেকে মাসিক বিল দিতে হয়। এটা জনগণের প্রতি অন্যায়।” এ বিষয়ে পৌরসভার এক কর্মকর্তা জানান, আইন অনুযায়ী পৌর এলাকার সকল বাসিন্দাই পানি ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট মাসিক ফি দিতে বাধ্য। ডিপ টিউবওয়েল ব্যবহারকারীরাও পৌরসভার আওতাধীন সেবাগ্রহীতা, তাই তারা এর বাইরে নয়। তবে নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দের দাবি, যেখানে পৌরসভা কোনো রক্ষণাবেক্ষণ, পানি সরবরাহ বা সেবা দিচ্ছে না, সেখানে মাসিক বিল আদায় সম্পূর্ণ অন্যায্য। তারা অবিলম্বে এই ‘অবৈধ বিল ব্যবস্থা’ বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। অনেকে মন্তব্য করেছেন, “নিজের টাকায় পানি তুলেও যদি বিল দিতে হয়, তবে ভোগান্তির শেষ কোথায়?”
পৌর সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সাব-মারসিবল ও ডবল জেট পাম্পের মাধ্যমে পানি উত্তোলনকারীদের জন্য নতুন চার্জ নির্ধারণ এবং বাৎসরিক চার্জের পরিবর্তে মাসিক ভিত্তিতে ফি আদায়ের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রস্তাবিত হারে ৩৮ মিমি ব্যাসের হস্তচালিত নলকূপের জন্য এককালীন জমা অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছে ৫,০০০ টাকা এবং মাসিক চার্জ ৩০০ টাকা। সাব-মারসিবল বা ডবল জেট পাম্পের ক্ষেত্রে পাম্পের ব্যাস ও ভবনের উচ্চতা অনুযায়ী ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১.৫–২ ইঞ্চি পাম্প: এককালীন ২০,০০০ টাকা, মাসিক চার্জ নিচতলার জন্য ৫০০ টাকা ও বহুতলের জন্য ১,০০০ টাকা। ৩–৪ ইঞ্চি পাম্প: এককালীন ৫০,০০০ টাকা, মাসিক চার্জ ৭৫০ ও ১,২৫০ টাকা। ৫–৬ ইঞ্চি পাম্প: এককালীন ১,০০,০০০ টাকা, মাসিক চার্জ ১,০০০ ও ১,৫০০ টাকা।পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পানি সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা ও অবৈধ পানি উত্তোলন নিয়ন্ত্রণে এই নতুন হার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই শেষে পৌর পরিষদের অনুমোদন সাপেক্ষে নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারি গেজেট অনুযায়ী, যেখানে পৌরসভা কর্তৃক নিরাপদ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিদ্যমান, সেখানে পৌরসভার অনুমোদন ছাড়া অন্য কোনো উৎস থেকে পানি সংযোগ গ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। গেজেটে উল্লেখ আছে—“যেখানে পৌরসভা কর্তৃক নিরাপদ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা রহিয়াছে, সেখানে পৌরসভার অনুমোদন ব্যতীত অন্য কোন নলকূপ, পুকুর বা পানি সরবরাহের অন্য কোন উৎস হইতে পানির সংযোগ গ্রহণ করা যাইবে না।”
তবে যেসব এলাকায় পৌরসভা পানি সরবরাহ করতে অক্ষম, সেখানে পৌরসভার অনুমোদন ও নির্ধারিত ফি প্রদানের মাধ্যমে বিকল্প পানির উৎস স্থাপনের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।
পৌর কর্মকর্তারা মনে করেন, এই বিধান কার্যকর হলে পানি ব্যবস্থাপনা ও জনস্বাস্থ্যের মান উন্নত হবে এবং অবৈধ পানি উত্তোলন বন্ধ হবে।
এদিকে সচেতন নাগরিকরা বলছেন, পৌরসভার উচিত জনদুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবসম্মত ও সহনীয় ফি নির্ধারণ করা। তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও জনগণের জন্য একটি স্থায়ী সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |