কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : মো. মুনজুরুল ইসলাম
কনকনে শীত, ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে যখন জনজীবন প্রায় স্থবির, ঠিক তখনই কুষ্টিয়ার মাঠে মাঠে শুরু হয়েছে জীবনের নতুন স্পন্দন। হাড়কাঁপানো শীতকে উপেক্ষা করে বোরো ধান চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলার কৃষকেরা। কাকডাকা ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কর্দমাক্ত জমিতে নেমে নিরলস শ্রমে তারা রচনা করছেন আগামী দিনের সোনালী ফসলের স্বপ্ন।
শীতের কুয়াশায় ঢাকা মাঠে গেলে চোখে পড়ে এক অনন্য দৃশ্য—সারিবদ্ধভাবে কেউ চারা তুলে দিচ্ছেন, কেউ চারা রোপণ করছেন, কেউ আবার জমি সমান ও সেচের কাজে ব্যস্ত। কনকনে হাওয়া যেন তাদের অদম্য মনোবলকে একটুও দমিয়ে রাখতে পারছে না। মুখে ক্লান্তির ছাপ থাকলেও চোখে-মুখে ফুটে উঠছে প্রত্যাশা আর সহমর্মিতার উষ্ণতা। গ্রামীণ জীবনের এই মিলেমিশে কাজ করার সংস্কৃতিই মাঠজুড়ে এনে দিয়েছে এক উৎসবের আমেজ।
স্থানীয় কৃষক হাবিবুল্লাহ বলেন, “অক্লান্ত পরিশ্রমে ফসল ফলানোই আমাদের জীবনের প্রধান ব্রত। তবে শীতের কষ্টের পাশাপাশি ন্যায্য মূল্য আর সারের প্রাপ্যতা নিয়ে দুশ্চিন্তাও পিছু ছাড়ছে না।” তার মতো অনেক কৃষকের অভিযোগ, প্রয়োজন অনুযায়ী সার না পাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। সরকারি পর্যায়ে সার মজুত থাকলেও মাঠপর্যায়ে তা সমানভাবে পৌঁছাচ্ছে না বলে তাদের দাবি।
আরেক কৃষক মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম বলেন, “প্রশাসনের সঠিক নজরদারি ও সরকারি তত্ত্বাবধান জোরদার হলে উৎপাদনে কোনো বাধা থাকবে না। উৎপাদন খরচ কমিয়ে ন্যায্য দামে ফসল বিক্রি করতে পারলেই আমরা লাভবান হতে পারব—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
ধান রোপণের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের ব্যস্ততাও চোখে পড়ার মতো। শ্রমিক মুকুল জানান, “চুক্তিভিত্তিক প্রতি বিঘা ধান লাগাতে ২ হাজার ৪শ’ টাকা নিই, দড়ি দিয়ে লাইন করে লাগালে ৩ হাজার টাকা। ভোরের কুয়াশার মধ্যে বীজতলা থেকে চারা তুলে মাথায় করে জমিতে এনে রোপণ করি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করে প্রতিদিন ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা আয় হয়।”
আরেক শ্রমিক সেলিম হোসেন বলেন, “এখন ধান লাগানোর মৌসুম, তাই কাজের চাপ বেশি। মৌসুম শেষ হলে কাজ কমে যায়। তীব্র শীতের মধ্যেও ভোরে ঠান্ডা পানিতে নেমে চারা তুলে কাঁদার মধ্যে রোপণ করতে হয়। এক সপ্তাহ ধরে এভাবে কাজ করতে করতে এখন অভ্যাস হয়ে গেছে।”
সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে কুষ্টিয়ার মাঠে আজও নেমে পড়েছেন কৃষকেরা। শীত, কাদা আর কষ্টকে সঙ্গী করে তারা বুনছেন আশার বীজ। সবুজ ধানের শীষে ভরে উঠবে মাঠ, সমৃদ্ধ হবে দেশের খাদ্যভাণ্ডার—এই বিশ্বাসই তাদের নিরন্তর শ্রমে জোগাচ্ছে নতুন শক্তি।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |