কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম
কুষ্টিয়ার গ্রামীণ কৃষি দৃশ্যাবলীতে এক নতুন রঙের ছোঁয়া লাগতে শুরু করেছে। ধান-আলু-পটল-শাকচাষের ধারা থেকে উঠে এসে কৃষকেরা এখন কলা চাষের দিকে ধীরে ধীরে ঝুঁকছেন। বিশেষ করে কুষ্টিয়া সদর, দৌলতপুর , কুমারখালী ও মিরপুর উপজেলার কৃষকরা কলার বাণিজ্যিক চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
কৃষক মো. কামরুল ইসলাম জানান, "আগে আমরা শুধু ধান আর সবজি চাষ করতাম। কিন্তু কলা চাষে ন্যূনতম যত্নে ভালো আয় সম্ভব, তাই এখন অনেকেই কলা বাগান শুরু করেছেন।" তিনি আরও জানান, "বাজারে চাহিদা ও দামের স্থায়িত্ব দেখে আমরা এ দিকে ঝুঁকেছি। বিশেষ করে লোকাল বাজারে কলার বিক্রি ভালো হওয়ায় আগ্রহ বেড়েছে।"
কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তা জানান, "কলার চাষে প্রযুক্তি ব্যবহার করলে উৎপাদন দ্বিগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। আমরা কৃষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও সরাসরি পরামর্শ প্রদানের ব্যবস্থা করছি।"
স্থানীয় বাজারে দেখা যায়, কলার চারা ও প্রস্তুত কলা ক্রয়-বিক্রয়ে একটি প্রাণবন্ত চিত্র তৈরি হয়েছে। কৃষকরা জানান, কলা বাগানগুলো শুধু তাদের আয় নয়, গ্রামীণ অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করছে। বাগান পরিচর্যা, পোকামাকড় ও রোগ প্রতিরোধের প্রতি খেয়াল রাখলে বছরজুড়ে লাভজনক ফসল উৎপাদন সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কুষ্টিয়ার মাটির গুণমান এবং আর্দ্রতা কলার জন্য আদর্শ। সঠিক চাষাবাদ ও পরিচর্যার মাধ্যমে কুষ্টিয়ার কৃষকরা শুধু আয় বৃদ্ধি করতে পারবেন না, বরং রপ্তানির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতেও অবদান রাখতে পারবেন।
কুষ্টিয়ায় কলা চাষ শুধু আয় বৃদ্ধি নয়, এটি গ্রামের মানুষদের কৃষিতে নতুন উদ্যম ও আত্মবিশ্বাসও যোগাচ্ছে। কৃষকেরা বলছেন, "যেমন ধান চাষে ধৈর্য লাগে, তেমনই কলার বাগানেও যত্নের সঙ্গে কাজ করলে ফলাফল দারুণ হয়।"
সংক্ষেপে, কুষ্টিয়ার কৃষক সমাজে কলা চাষ ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এটি প্রমাণ করছে, কৃষকরা এখন শুধু বেঁচে থাকার জন্য নয়, উন্নতির জন্যও নতুন নতুন পথ খুঁজছেন।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |