কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : মো. মুনজুরুল ইসলাম
কুষ্টিয়ার গ্রামীণ জনপদে এখন কেবল মাঠভরা সবুজের ছোঁয়া নয়—ছড়িয়ে পড়ছে আত্মনির্ভরতার সুবাস। কাঁচা হলুদ চাষের গণ্ডি পেরিয়ে কৃষকেরা এখন নিজেরাই তৈরি করছেন ভেজালমুক্ত, রান্নার উপযোগী গুঁড়া হলুদ। এতে যেমন নিশ্চিত হচ্ছে খাদ্যের মান ও নিরাপত্তা, তেমনি কৃষকের জীবনে যোগ হচ্ছে নতুন সম্ভাবনার আলো।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মনোহরদিয়া ইউনিয়নের রসুনপুর গ্রামের মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান এই হলুদ প্রক্রিয়াজাতকরণের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। দীর্ঘদিন ধরে তিনি হলুদ প্রক্রিয়াকরণের সঙ্গে যুক্ত। প্রতিদিন প্রায় ৮০ থেকে ৯০ মন কাঁচা হলুদ প্রক্রিয়াজাত করা হয় তার উদ্যোগে। আশপাশের কৃষকদের উৎপাদিত হলুদ এখানে এনে পরিণত করা হচ্ছে মানসম্মত গুঁড়া হলুদে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে তৈরি করছে নতুন গতি।
সরেজমিনে কুষ্টিয়া সদর, দৌলতপুর, মিরপুর, ভেড়ামারা ও কুমারখালী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে দেখা যায়, মাঠ থেকে তোলা কাঁচা হলুদ প্রথমে ভালোভাবে পরিষ্কার করে সিদ্ধ করা হচ্ছে। এরপর রোদে শুকিয়ে আধুনিক কিংবা ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে তা গুঁড়া করে প্যাকেটজাত করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হচ্ছে না কোনো কৃত্রিম রং বা রাসায়নিক—ফলে তৈরি হচ্ছে স্বাভাবিক রং, স্বতন্ত্র সুগন্ধ ও খাঁটি স্বাদের ভেজালমুক্ত হলুদ। স্বাভাবিকভাবেই বাজারে এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।
দৌলতপুর উপজেলার এক কৃষক বলেন,“আগে কাঁচা হলুদ বিক্রি করে তেমন লাভ হতো না। এখন নিজেরাই গুঁড়া করে বাজারে দিচ্ছি। খরচ কম, লাভ বেশি—সবচেয়ে বড় কথা, নিজের পণ্যের মান নিয়ে গর্ব করতে পারছি।”
আরেক কৃষকের ভাষ্য, স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি আশপাশের জেলা থেকেও এই হলুদের চাহিদা আসছে। কেউ কেউ আগাম অর্ডার দিয়ে রাখছেন, যা কৃষকদের উৎপাদনে বাড়তি উৎসাহ ও আস্থা যোগাচ্ছে।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, কৃষিপণ্যে মূল্য সংযোজন একটি অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ। এতে কৃষকের আয় বাড়ে, মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরতা কমে এবং ভোক্তারা পান নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত খাদ্যপণ্য। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, হলুদ প্রক্রিয়াজাতকরণে কৃষকদের আগ্রহ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এই উদ্যোগ আরও বেগবান হবে। সঠিক পরিকল্পনা ও ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে কুষ্টিয়ার হলুদ একদিন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে জাতীয় এমনকি আন্তর্জাতিক বাজারেও পরিচিতি পেতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, কুষ্টিয়ার কৃষকেরা প্রমাণ করে দিচ্ছেন—পরিশ্রম, উদ্ভাবনী চিন্তা আর মূল্য সংযোজনের সঠিক ব্যবহারে কৃষিই হতে পারে টেকসই উন্নয়নের অন্যতম শক্ত ভিত। গ্রামবাংলার এই সাফল্যের গল্প নিঃসন্দেহে দেশের কৃষিখাতে নতুন অনুপ্রেরণার বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |