মেহেরপুর প্রতিনিধি | হিরক খান
আসন্ন মেহেরপুর জেলা যুবদলের নতুন কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সভাপতি পদে সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে। সেই আলোচনায় অন্যতম নাম হিসেবে উঠে এসেছে দীর্ঘদিনের সংগঠক মো. জাহিদুল ইসলাম শামীম। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতে, ছাত্রদল থেকে শুরু করে বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দলের দুঃসময়ে মাঠে থেকে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে সভাপতি পদের জন্য শক্তিশালী দাবিদারে পরিণত করেছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সাল থেকে মো. জাহিদুল ইসলাম শামীম বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন। ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক পথচলার সূচনা হয়। পরবর্তীতে দলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিয়মিত ভূমিকা রেখে তিনি নেতাকর্মীদের আস্থা অর্জন করেন।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাংশের ভাষ্য, দলের প্রতিকূল সময়ে মাঠে থেকে কাজ করা, কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখা এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলার প্রতি অঙ্গীকার—এই গুণগুলোই শামীমকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। তাঁদের বিশ্বাস, নেতৃত্বের সুযোগ পেলে তিনি জেলা যুবদলকে আরও ঐক্যবদ্ধ, গতিশীল ও শক্তিশালী সংগঠনে রূপ দিতে সক্ষম হবেন।
এ বিষয়ে মো. জাহিদুল ইসলাম শামীম বলেন,"আমি সব সময় দলের আদর্শ, শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক নীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছি। ভবিষ্যতেও দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশনা ও সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে মেহেরপুর জেলা যুবদলকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে নিরলসভাবে কাজ করে যেতে চাই।"
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্যক্তিগত সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি শামীমের পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যও তাঁকে বিশেষভাবে পরিচিত করে তুলেছে।
তাঁর বাবা, মরহুম ইসলাম আলী মাস্টার, মেহেরপুরের রাজনীতি, শিক্ষা, সাংবাদিকতা, ক্রীড়া ও সামাজিক উন্নয়নের অঙ্গনে এক সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে জাগদল, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), প্রেসক্লাব, বিআরডিবি, জেলা ক্রীড়া সংস্থা, রেড ক্রিসেন্ট, শিক্ষক ফেডারেশন, সাংবাদিক সমিতি, পাবলিক লাইব্রেরি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অসংখ্য সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক অবদান আজও মেহেরপুরের মানুষের কাছে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়।
অন্যদিকে, শামীমের ছোট চাচা নাসির উদ্দিন ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত মেহেরপুর সদর থানা ছাত্রদলের সভাপতি এবং ১৯৯৪ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত সদর থানা যুবদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই সময়ে তিনি জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। এছাড়া তাঁর আরেক চাচা আহসান হাবীব দীর্ঘ সময় মেহেরপুর জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক এবং ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
দলের প্রবীণ নেতারা মনে করেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ঐতিহ্য, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক—এই তিনটি বিষয় মো. জাহিদুল ইসলাম শামীমকে জেলা যুবদলের সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
তবে জেলা যুবদলের সভাপতি পদ নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা ও প্রত্যাশা থাকলেও, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |