কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : মো. মুনজুরুল ইসলাম
শীতের নরম রোদে কুয়াশা ভেদ করে যখন সূর্যের আলো মাঠে এসে পড়ে, তখন কুষ্টিয়ার গ্রামবাংলা যেন রঙিন ক্যানভাসে রূপ নেয়। চারদিকে শুধু হলুদ আর হলুদ—সরিষা ফুলের অপার সৌন্দর্যে মোড়া এক অনন্য দৃশ্য। কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার কুর্ষা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন সরিষা ফুলের হলুদের সমারোহ, যা প্রকৃতিপ্রেমী আর কৃষকের হৃদয় একসঙ্গে আন্দোলিত করছে।
সরিষা ফুলের এই হলুদাভ সৌন্দর্য এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। আর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এই ফুল রূপ নেবে পরিপূর্ণ ফসলে। কৃষকেরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন সরিষা কর্তনের—মাঠ থেকে ঘরে তোলার আনন্দঘন মুহূর্তের অপেক্ষায়।
শুধু মিরপুর উপজেলাতেই নয়, কুষ্টিয়া সদর, কুমারখালী, খোকসা, ভেড়ামারা ও দৌলতপুর উপজেলার অধিকাংশ জমিতেই কৃষকেরা স্বল্পমেয়াদি এই সরিষা আবাদে ঝুঁকছেন। কারণ, অল্প খরচে কম সময়ে ভালো ফলন—এই দুইয়ের মেলবন্ধনই সরিষাকে করে তুলেছে কৃষকের কাছে অন্যতম লাভজনক ফসল।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আমন ধান কাটার পর জমি পতিত না রেখে সরিষা আবাদ করে তাঁরা বাড়তি আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। মাত্র ৮০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যেই ফসল ঘরে তোলা যায়। পাশাপাশি সরিষা চাষে সেচ ও সার ব্যবহারের প্রয়োজন তুলনামূলক কম হওয়ায় খরচও থাকে হাতের নাগালে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, বাজারে সরিষার তেলের চাহিদা বাড়ায় এ ফসলের ন্যায্যমূল্য পাওয়া যায়। ফলে পরিবারে বাড়তি স্বচ্ছলতা আসছে, সংসারের খরচ মেটানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়ের পথও তৈরি হচ্ছে।
সরিষার হলুদ ফুল শুধু অর্থনৈতিক সম্ভাবনাই নয়, প্রকৃতির সৌন্দর্যও বাড়িয়ে তুলেছে বহুগুণ। সকালে মাঠের আল ধরে হাঁটলে মৌমাছির গুঞ্জন, হালকা বাতাসে দোল খাওয়া হলুদ ফুল আর দূরে ছায়ার মতো দাঁড়িয়ে থাকা কৃষকের অবয়ব—সব মিলিয়ে এক অপূর্ব গ্রামবাংলার ছবি।
কুষ্টিয়ার মাঠজুড়ে সরিষার এই হলুদ বিপ্লব প্রমাণ করছে—সঠিক পরিকল্পনা আর সময়োপযোগী ফসল নির্বাচন কৃষকের জীবনে এনে দিতে পারে স্বাচ্ছন্দ্য ও আশার আলো। অল্প দিনের এই ফসল যেন কুষ্টিয়ার কৃষিতে এক নতুন সম্ভাবনার নাম।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |