কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম
সবুজের অপরূপ বিস্তারে যেন নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে কুষ্টিয়া জেলার মাঠঘাট। দিগন্তজোড়া ইক্ষুর সারি দূর থেকে দেখলে মনে হয় প্রকৃতির তুলিতে আঁকা এক জীবন্ত চিত্রপট—যেখানে প্রতিটি পাতায় লুকিয়ে আছে সম্ভাবনা, পরিশ্রম আর আশার গল্প। চলতি মৌসুমে তাই জেলার কৃষকদের চোখেমুখে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বাম্পার ফলনের স্বপ্ন।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ১০টায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জগতি সুগার মিল সংলগ্ন এলাকায় কৃষকদের সঙ্গে সরেজমিনে কথা বলে জানা যায়, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর ইক্ষুর ক্ষেত হয়েছে আগের চেয়ে অনেক বেশি সবল ও সতেজ। জেলার সদর, মিরপুর, কুমারখালী ও দৌলতপুরসহ বিভিন্ন উপজেলায় ইক্ষুর আবাদ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সময়মতো বৃষ্টিপাত এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির ব্যবহারে ইক্ষুর উৎপাদন সম্ভাবনা বেড়েছে বহুগুণ। মাঠজুড়ে সুস্থ ও প্রাণবন্ত গাছের সারি যেন আগাম বার্তা দিচ্ছে ভালো ফলনের।
কৃষকদের সঙ্গে আলাপে জানা যায়, এবারের মৌসুমে সেচের প্রয়োজন তুলনামূলক কম হওয়ায় উৎপাদন খরচও কমেছে। পাশাপাশি উন্নত জাতের বীজ ব্যবহারের সুফলও মিলছে মাঠে।
সদর উপজেলার কৃষক মিজানুর রহমান বলেন,“এবার ইক্ষুর ক্ষেত দেখে সত্যিই সাহস পাচ্ছি। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভালো ফলন হবেই। আমি ২৩ একর জমিতে ইক্ষু চাষ করেছি। গত বছরের মতো এবারও ভালো ফলনের আশা করছি।”
তিনি আরও জানান, প্রতি একর জমি থেকে বছরে এক লাখ টাকার বেশি আয় সম্ভব। সরকার নির্ধারিত দামে ইক্ষু বিক্রির সুযোগ থাকায় কৃষকদের মধ্যে বাড়ছে আস্থা। “কুষ্টিয়া সুগার মিল শুধু একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান নয়, এটি আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। মিল সচল রাখতে হলে ইক্ষু আবাদ বাড়ানো জরুরি,”—যোগ করেন তিনি।
এদিকে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারাও এবারের ফলন নিয়ে আশাবাদী। তাদের মতে, রোগবালাই তুলনামূলক কম থাকায় ইক্ষুর গুণগত মান ভালো হচ্ছে। নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন ও কৃষকদের পরামর্শ দেওয়ার মাধ্যমে উৎপাদন আরও বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
তবে আশার এই সবুজ প্রান্তরে কিছুটা শঙ্কাও রয়েছে। ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং সময়মতো সুগার মিলে ইক্ষু সরবরাহের বিষয়টি এখনো কৃষকদের ভাবনার জায়গা হয়ে আছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে কৃষকের এই স্বপ্ন আরও দৃঢ় হবে।
সব মিলিয়ে, প্রকৃতির অনুকূলতা আর কৃষকের অক্লান্ত পরিশ্রমে কুষ্টিয়ার ইক্ষু ক্ষেত আজ সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পথে। সেই সম্ভাবনা যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে এ অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে যুক্ত হবে সাফল্যের নতুন অধ্যায়—এমন প্রত্যাশাই এখন সবার।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |