| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

কুষ্টিয়া হোমিওপ্যাথি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 25-04-2026 ইং
  • 18099 বার পঠিত
কুষ্টিয়া হোমিওপ্যাথি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি
ছবির ক্যাপশন: কুষ্টিয়া হোমিওপ্যাথি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:

দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগে অনিয়ম, প্রশাসনিক অসঙ্গতি, আর্থিক দুর্নীতি ও জবাবদিহিতার অভাবের অভিযোগ ঘিরে কুষ্টিয়ার হোমিওপ্যাথি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব, ম্যানেজিং কমিটির নিষ্ক্রিয়তা এবং প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ।

অভিযোগ উঠেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে একাধিক নিয়োগ সম্পন্ন হলেও কোনো আনুষ্ঠানিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বা সার্কুলার প্রকাশ করা হয়নি। বরং পরপর দুই-তিনটি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও তা হয়েছে গোপনে ও প্রশ্নবিদ্ধ উপায়ে। বিশেষ করে ২০১৬ সালের নিয়োগে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এবং ২০২২ সালের নিয়োগ নিয়েও অনিয়মের নানা অভিযোগ স্থানীয় মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব বিষয়ে কাগজে-কলমে সুস্পষ্ট জবাবদিহি নেই; বরং অনেক কিছুই মৌখিক সিদ্ধান্তে পরিচালিত হয়েছে। সিনিয়রদের উপেক্ষা করে জুনিয়রকে প্রিন্সিপালের চেয়ারে বসানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে, যা প্রশাসনিক নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

এছাড়া, বর্তমান প্রিন্সিপাল পদে কে বৈধভাবে দায়িত্বে রয়েছেন—আতিয়ার না রহিম—তা নিয়েও তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। বিষয়টি জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে জবাবদিহির প্রশ্ন তুলেছে। প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির কোনো সভা দীর্ঘদিন অনুষ্ঠিত হয়নি বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। কার্যত কমিটি নিষ্ক্রিয় থাকায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা।

আরও বিস্ময়কর অভিযোগ, কম্পাউন্ডার হিসেবে নিয়োজিত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে রোগী দেখছেন, যা চিকিৎসা নীতিমালা ও দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে ২০১৪ সাল থেকে পরিচালিত ইন্টার্নশিপ সাইন বা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমেরও নাকি কাউন্সিলের অনুমোদন নেই—এমন অভিযোগে উদ্বিগ্ন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় সচেতন নাগরিক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট মহল বলছেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, নিয়মনীতি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ও শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হতে পারে। তারা বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে দায় নিরূপণ এবং স্বচ্ছ প্রশাসনিক কাঠামো ফিরিয়ে আনাই এখন সময়ের দাবি। কারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, এটি ন্যায়, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতারও প্রতীক। সেখানে অনিয়মের অভিযোগ নিছক একটি প্রতিষ্ঠানের সংকট নয়, বরং বৃহত্তর শিক্ষাব্যবস্থার জন্যও একটি সতর্কবার্তা।


ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম