কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : মো. মুনজুরুল ইসলাম
কুয়াশা মোড়ানো শীতের সকাল। কুষ্টিয়ার মাঠজুড়ে একসময় যেখানে সোনালি ধানের শীষ বাতাসে দুলত, আজ সেখানে সারি সারি তামাক গাছ—সবুজ পাতার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক নীরব সর্বনাশ। জীবনের তাগিদে, লাভের আশায় মরণঘাতী তামাক চাষে ঝুঁকছেন জেলার বহু কৃষক। অথচ এই তামাকই ধীরে ধীরে গ্রাস করছে মাটি, মানুষ আর ভবিষ্যৎকে।
কুষ্টিয়ার মিরপুর, ভেড়ামারা ও দৌলতপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ চর ও মাঠ এলাকায় প্রতিবছর বাড়ছে তামাক চাষের পরিধি। কৃষকদের ভাষ্য, ধান বা সবজির তুলনায় তামাক চাষে নগদ অর্থ দ্রুত হাতে আসে। বড় বড় তামাক কোম্পানির প্রতিনিধি এসে আগাম ঋণ, সার-বীজ ও নিশ্চিত বাজারের আশ্বাস দেওয়ায় অনেকেই সহজে প্রলুব্ধ হচ্ছেন।
মিরপুর উপজেলার এক কৃষক বলেন,“ধান করলে লাভ থাকে না, ক্ষতিই বেশি। তামাক কোম্পানি সব দিয়ে দেয়, শেষে তামাক পাতা কিনে নিয়ে যায়। সংসার চালাতে বাধ্য হয়েই করছি।”
কিন্তু এই ‘সহজ লাভ’-এর পেছনে লুকিয়ে আছে গভীর ক্ষতি। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, তামাক চাষে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারে জমির উর্বরতা দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। একবার তামাক চাষ হলে সেই জমিতে পরবর্তী মৌসুমে খাদ্যশস্য ফলাতে দ্বিগুণ খরচ ও সময় লাগে। অনেক ক্ষেত্রেই জমি হয়ে পড়ছে প্রায় অনুর্বর।
স্বাস্থ্যঝুঁকিও কম নয়। তামাক পাতা শুকানো, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণের সময় কৃষক ও শ্রমিকরা সরাসরি ক্ষতিকর নিকোটিন ও রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসছেন। এতে ত্বক রোগ, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা ও দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
পরিবেশবাদীরা বলছেন, তামাক চাষ শুধু কৃষি নয়, পুরো পরিবেশ ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলছে। তামাক শুকাতে ব্যবহৃত হচ্ছে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি কাঠ, ফলে বাড়ছে বন উজাড়। মাটি ও পানির দূষণও উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে।
কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান,“আমরা কৃষকদের তামাকের বদলে ভুট্টা, পেয়ারা, সবজি ও ডালজাতীয় ফসল চাষে উৎসাহিত করছি। কিন্তু তামাক কোম্পানির আগাম সুবিধার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, তামাক চাষ থেকে কৃষকদের ফেরাতে শুধু পরামর্শ নয়, প্রয়োজন কার্যকর নীতি, প্রণোদনা ও বিকল্প ফসলের নিশ্চিত বাজার। না হলে আজকের এই ‘লাভজনক’ তামাকই আগামী দিনের খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে।
সবুজ মাঠে তামাকের ছায়া যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই সংকুচিত হচ্ছে সুস্থ জীবন ও নিরাপদ ভবিষ্যতের সম্ভাবনা। এখনই সময়—মরণঘাতী তামাকের বদলে জীবনঘনিষ্ঠ কৃষিতে ফিরে যাওয়ার।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |