| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

কুষ্টিয়ায় পার্থ হত্যার বিচারহীনতা ন্যায়বিচারের প্রতীক্ষায় এক অসহায় পরিবার

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 29-04-2026 ইং
  • 16126 বার পঠিত
কুষ্টিয়ায় পার্থ হত্যার বিচারহীনতা ন্যায়বিচারের প্রতীক্ষায় এক অসহায় পরিবার
ছবির ক্যাপশন: কুষ্টিয়ায় পার্থ হত্যার বিচারহীনতা ন্যায়বিচারের প্রতীক্ষায় এক অসহায় পরিবার

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার যুগিয়া কদমতলার শান্ত জনপদে এক মাস ধরেই নেমে আছে শোক, ক্ষোভ আর ন্যায়বিচারের দীর্ঘ প্রতীক্ষা। তরুণ পার্থ হত্যাকাণ্ডের পর পেরিয়ে গেছে এক মাস, অথচ বিচার প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় হতাশায় দিন কাটছে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর।

গত ৭ মার্চ ২০২৬—পার্থের জীবনের শেষ দিন, আর তার পরিবারের জন্য এক বিভীষিকাময় অধ্যায়ের সূচনা। অভিযোগ রয়েছে, পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডে ২১ জনকে আসামি করা হলেও এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছে মাত্র দুজন। বাকি আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। এতে বিচারপ্রত্যাশী পরিবারে বাড়ছে উদ্বেগ ও ক্ষোভ।

নিহতের বাবা মো. হেলাল উদ্দিন কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। প্রতিটি দিন শুধু অপেক্ষায় কাটছে—কবে আমার সন্তানের হত্যার বিচার পাব।”

মা মোছা. পারুল বেগমের কণ্ঠে ফুটে ওঠে এক মায়ের অসীম বেদনা। তিনি বলেন, “আমার ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, অথচ আজও বিচার পাইনি। প্রতিদিন প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি, কিন্তু আশার আলো দেখছি না।”

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ঘটনার পরপরই প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ করা হলেও তদন্তে কাঙ্ক্ষিত গতি নেই। তাদের দাবি, প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা থাকলে পলাতক আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হতো।

বন্ধু সজীব আহমেদ বলেন, পার্থ ছিল শান্ত ও নিরীহ স্বভাবের একজন তরুণ। তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যু পুরো এলাকাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। তিনি দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান।

নিহতের আত্মীয় আকলিমা খাতুন বলেন, “এখনও বিশ্বাস করতে পারি না পার্থ নেই। আমাদের পরিবারের ওপর যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে। আমরা শুধু ন্যায়বিচার চাই।”

ঘটনার প্রত্যক্ষ প্রতিক্রিয়া তুলে ধরে প্রতিবেশী জলি খাতুন জানান, সেদিন এলাকাজুড়ে হঠাৎ চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হলে ছুটে গিয়ে তারা এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। তার ভাষায়, “এমন মর্মান্তিক ঘটনা এই এলাকায় আগে কখনও ঘটেনি।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, হত্যার মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় তদন্তের ধীরগতি জনমনে উদ্বেগ তৈরি করছে। বিচারহীনতা দীর্ঘায়িত হলে তা অপরাধীদের উৎসাহিত করতে পারে বলেও আশঙ্কা সচেতন মহলের।

মানবাধিকারকর্মী ও সমাজসচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, একটি তরুণ প্রাণের এমন নির্মম পরিণতি বিচারহীনতার অন্ধকারে হারিয়ে যেতে পারে না। দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

এদিকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলার অগ্রগতি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো না হওয়ায় এলাকাজুড়ে বাড়ছে প্রশ্ন—পার্থ হত্যার বিচার কি আদৌ হবে?

তবে শোকের মাঝেও থেমে নেই পরিবারের সংগ্রাম। ন্যায়বিচারের দাবিতে তারা লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনের পথেও হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা।

একটি পরিবারের চোখের জল, একটি জনপদের ক্ষোভ আর এক তরুণের অপূর্ণ জীবনের গল্প আজ মিশে গেছে এক প্রশ্নে—বিচার কবে?

পার্থের পরিবার আজও তাকিয়ে আছে রাষ্ট্র ও প্রশাসনের দিকে। তাদের একটাই স্বপ্ন—ন্যায়বিচার। আর সেই স্বপ্ন পূরণের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে পুরো কুষ্টিয়া।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম