কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহ যেন আবারও ফিরে পেয়েছে তার চিরচেনা প্রাণ। পদ্মাপাড়ের নিসর্গ, কুঠিবাড়ির নীরবতা আর রবীন্দ্রস্মৃতির আবেশে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। শুক্রবার (৮ মে) বাংলা সাহিত্যের মহান পুরুষ, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে কুষ্টিয়ার শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজন।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবকে ঘিরে কুঠিবাড়ি প্রাঙ্গণে এখন উৎসবের আমেজ। ‘শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা।
রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি ঘিরে সাজানো হয়েছে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। কুঠিবাড়ির সামনের বিস্তৃত মাঠে নির্মাণ করা হয়েছে সুসজ্জিত মঞ্চ। চারপাশের দেয়াল ও গাছের গুঁড়িতে সাদা রঙের প্রলেপ, সড়কজুড়ে রঙিন আলপনা—সব মিলিয়ে যেন এক নান্দনিক শিল্পভূমি। ভেতরে-বাইরে ভিড় করছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা রবীন্দ্রপ্রেমীরা।
শিলাইদহ খোরশেদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া খাতুন আবেগভরা কণ্ঠে বলেন, “কুঠিবাড়িতে এলেই অন্যরকম অনুভূতি কাজ করে। মনে হয় এখানকার আকাশ-বাতাসে এখনও কবিগুরুর স্মৃতি ভেসে বেড়াচ্ছে।”
সিরাজগঞ্জ থেকে আসা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইসরাইল হোসেন বলেন, “অনেকদিন ধরেই শিলাইদহ কুঠিবাড়ি দেখার ইচ্ছে ছিল। জন্মজয়ন্তীর এই সময়ে এসে দেখছি পুরো এলাকা সাজসাজ রবে ভরে উঠেছে। এখানকার পরিবেশ সত্যিই মন ছুঁয়ে যায়।”
শিলাইদহের রবীন্দ্র কুঠিবাড়ির কাস্টোডিয়ান মো. আল আমিন জানান, তিনদিনব্যাপী আয়োজনে থাকছে রবীন্দ্রসংগীত, কবিতা আবৃত্তি, আলোচনা সভা ও মঞ্চনাটক। আগামী ১০ মে মধ্যরাত পর্যন্ত চলবে এই সাংস্কৃতিক আয়োজন। তবে এবার বসছে না ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলা।
বাংলা ১২৬৮ সালের ২৫ বৈশাখ কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ১৮৯১ সালে জমিদারি তদারকির দায়িত্ব নিয়ে তিনি আসেন কুষ্টিয়ার শিলাইদহে। পদ্মার পাড়ঘেঁষা এই অপার সৌন্দর্যময় পরিবেশেই কবির সৃষ্টিশীলতা পেয়েছিল নতুন মাত্রা। এখানেই রচিত হয় ‘সোনার তরী’, ‘চিত্রা’, ‘চৈতালী’-সহ বাংলা সাহিত্যের অসংখ্য অমর সৃষ্টি।
রবীন্দ্রনাথের জন্মজয়ন্তীকে ঘিরে শিলাইদহ আজ শুধু একটি আয়োজনের নাম নয়, এটি যেন বাঙালির সাহিত্য-সংস্কৃতি ও মানবিক চেতনার এক মিলনমেলা। পদ্মার হাওয়ায়, আলপনার রঙে আর রবীন্দ্রসুরের মূর্ছনায় শিলাইদহ আজও স্মরণ করিয়ে দেয়—কবিগুরু কেবল একজন কবি নন, তিনি বাঙালির হৃদয়ের চিরন্তন স্পন্দন।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |