কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম
গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও স্মরণে কুষ্টিয়ায় পালিত হয়েছে শহীদ রাষ্ট্রপতি, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর সেক্টর কমান্ডার এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা ও তবারক বিতরণের আয়োজন করে কুষ্টিয়া শহর বিএনপির ২ নম্বর ওয়ার্ড শাখা।
সোমবার (৮ জুন) শহরের থানাপাড়া পুলিশ ক্লাব প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ স্মরণানুষ্ঠানে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক, সুধীজন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে। দিনব্যাপী আয়োজনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন, দেশপ্রেম, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও রাষ্ট্রগঠনে তাঁর অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আখতারুজ্জামান কাজল মজুমদার, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম রিন্টু, জেলা যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মেজবাউর রহমান পিন্টু, শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আলামিন কানাই রানা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আব্দুল হাকিম মাসুদ, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার শামসুজ্জামান জাহিদ, রাকিবুল হাসান রিঙ্কু, শহর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন জনি, জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া শহর বিএনপির ২ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মোহাম্মদ সৈকত। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন জিয়া রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদ শহর শাখার সাধারণ সম্পাদক রাকিব হাসান শাওন, শহর যুবদলের সদস্য ওলি হোসেন, নেতা ওহিদুল ইসলাম মিট এবং শহর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান কামু।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। স্বাধীনতা-পরবর্তী সংকটময় সময়ে দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, উৎপাদনমুখী উন্নয়ন, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় ঐক্য সুসংহত করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জনগণমুখী রাজনৈতিক দর্শন আজও দেশপ্রেমিক মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।
পরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে দেশ ও জাতির কল্যাণ, শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মুসলিম উম্মাহর সুখ-শান্তি কামনা করা হয়। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ আবেগঘন পরিবেশে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
দোয়া মাহফিল শেষে উপস্থিত সবার মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়। এ সময় নেতাকর্মীদের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ঐক্যের এক অনন্য চিত্র ফুটে ওঠে। বক্তারা বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও চেতনা ধারণ করে গণতন্ত্র, উন্নয়ন এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
আয়োজকদের মতে, এ স্মরণানুষ্ঠান শুধু একজন রাষ্ট্রনায়কের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তাঁর আদর্শ, কর্মনিষ্ঠা ও দেশপ্রেম নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার এক তাৎপর্যপূর্ণ প্রয়াস হিসেবেও বিবেচিত হয়েছে। বক্তাদের ভাষায়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্ব, অবদান ও আত্মত্যাগ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |