কুষ্টিয়া প্রতিনিধি |:
কুষ্টিয়া হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রশাসনিক কার্যক্রম, শিক্ষা ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক লেনদেন নিয়ে নানা অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের একাংশ।
অভিযোগ অনুযায়ী, কলেজের পরিচালনা ব্যবস্থা, শিক্ষক নিয়োগ, ম্যানেজিং কমিটি গঠন, শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নি ভাতা, ফি আদায়, হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন রয়েছে। এসব কারণে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম ও রোগীসেবার মান ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটি নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। তবে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অভিযোগকারীরা দাবি করেন, কলেজের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের আগে জাতীয় বা স্থানীয় পত্রিকায় প্রয়োজনীয় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও যথাযথ নোটিশ ও ভোটারদের অবহিত করার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। একই সঙ্গে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের নির্বাচনসংক্রান্ত ঘোষণা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং বোর্ডের নির্দেশনার কপিও প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।
এছাড়া কলেজে কর্মরত মেডিকেল অফিসারের নিয়োগ, হাসপাতালের নিয়মিত চিকিৎসাসেবা, রোগী দেখার নির্ধারিত সময়সূচি এবং চিকিৎসক উপস্থিতির বিষয়েও স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশের দাবি উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালে সেবা কার্যক্রম প্রত্যাশিত মানে পরিচালিত হচ্ছে না।
অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, জ্যেষ্ঠতা অনুসরণের বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি এবং নিয়োগে সংশ্লিষ্ট বোর্ডের অনুমোদনের বিষয়টি স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় অনুমোদনপত্র প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগের মধ্যে অন্যতম হলো ইন্টার্নি ভাতা প্রদান না করা এবং বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ আদায়ের অভিযোগ। অভিযোগকারীদের দাবি, কোনো কোনো ক্ষেত্রে জরিমানার নামে অর্থ আদায় করা হয় এবং অর্থ পরিশোধ না করলে পরীক্ষায় অসুবিধার মুখে পড়তে হয় বলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অভিযোগ রয়েছে। তবে এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ ছাড়া সার্টিফিকেট ও চিকিৎসক নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) কার্ড গ্রহণের সময় বোর্ড নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন, বোর্ড নির্ধারিত ফি, বিভিন্ন বর্ষের ক্লাস পরিচালনা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং হাজিরা সংরক্ষণের পদ্ধতি নিয়েও তথ্য প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।
২০২২ সালে অনুষ্ঠিত নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের দাবি, নিয়োগের আগে যথাযথভাবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল কি না এবং নিয়োগে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়েছিল কি না—তা তদন্ত করে জনসম্মুখে প্রকাশ করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, কলেজের আর্থিক লেনদেন ও ব্যাংক চেক পরিচালনার ক্ষমতা কার হাতে রয়েছে, সে বিষয়েও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা চেয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
শিক্ষাবিদদের মতে, একটি চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, আর্থিক জবাবদিহি এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |