| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

কুষ্টিয়া হাসপাতালে দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির বিচ্ছিন্ন পা খুঁজে না পাওয়ার অভিযোগ

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 10-07-2026 ইং
  • 7516 বার পঠিত
কুষ্টিয়া হাসপাতালে দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির বিচ্ছিন্ন পা খুঁজে না পাওয়ার অভিযোগ
ছবির ক্যাপশন: স্বজনদের ক্ষোভ, তদন্তের আশ্বাস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত এক ব্যক্তির বিচ্ছিন্ন ডান পা খুঁজে না পাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের স্বজনরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ তুলে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিহত হাসেম আলী (৬০) কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আব্দালপুর ইউনিয়নের পশ্চিম আব্দালপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন কৃষক ছিলেন।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আব্দালপুরের শাহপুর নতুন মসজিদ মোড় এলাকায় একটি ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন হাসেম আলী। দুর্ঘটনায় তার ডান পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।

চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ গ্রহণ করতে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা দেখতে পান, দুর্ঘটনায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ডান পায়ের অংশটি আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ সময় ধরে খোঁজাখুঁজি করেও সেটির সন্ধান মেলেনি বলে অভিযোগ করেন তারা।

নিহতের ভাই রাশিদুর রহমান বলেন, “হাসপাতালে ভর্তি করার সময় বিচ্ছিন্ন পায়ের অংশটিও সঙ্গে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভাইয়ের মৃত্যুর পর মরদেহ বুঝে নিতে গিয়ে সেটি আর পাওয়া যায়নি। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও কেউ সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।”

আব্দালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হায়দার স্বপন বলেন, “হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করেও বিচ্ছিন্ন পায়ের অংশটি পাওয়া যায়নি। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। কীভাবে এটি হারিয়ে গেল, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ইকবাল হাসান বলেন, “দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির বিচ্ছিন্ন পা হাসপাতালেই আনা হয়েছিল। স্টাফরা সেটি স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছেন বলে শুনেছি। এরপর কী হয়েছে, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অন্যদিকে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নই। তবে নিহতের পরিবার বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনাটি কুষ্টিয়াজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। হাসপাতালের রোগী ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসা-পরবর্তী সংরক্ষণ প্রক্রিয়া এবং দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, দায় নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম