কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) একই দিনে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুটি তাৎপর্যপূর্ণ আয়োজন—ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের গ্র্যাজুয়েশন সমাপনী উৎসব এবং নিরাপদ শিক্ষাপরিবেশ নিশ্চিত করতে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ বিষয়ক আলোচনা সভা। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক অর্জনের স্বীকৃতি ও নিরাপদ, মানবিক শিক্ষাঙ্গন গড়ে তোলার প্রত্যয়ে আয়োজিত এ দুটি অনুষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে সৃষ্টি করে উৎসবমুখর ও সচেতনতাপূর্ণ পরিবেশ।
সোমবার (২০ জুলাই) সকালে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ ভবনের ১৪০ নম্বর কক্ষে অনুষ্ঠিত গ্র্যাজুয়েশন সমাপনী উৎসবে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান। ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এয়াকুব আলী, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মিনহাজউল হক।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান নবীন গ্র্যাজুয়েটদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সমাপ্তি নতুন এক যাত্রার সূচনা মাত্র। আগামী দিনের প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে দক্ষতা, সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা অর্জনের বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, শুধু সনদ অর্জন নয়, বরং চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে দেশ ও জাতির জন্য দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, একজন গ্র্যাজুয়েট তৈরিতে রাষ্ট্রের যে বিনিয়োগ হয়, তার যথাযথ প্রতিফলন নিশ্চিত করার দায়িত্ব শিক্ষকদেরও রয়েছে। গবেষণা, উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতা বিকাশে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অতিথিদের অংশগ্রহণে ক্যাম্পাসজুড়ে বিরাজ করে আনন্দ ও আবেগঘন পরিবেশ।
অন্যদিকে, একই দিন দুপুরে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের ৪১২ নম্বর কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় "নিরাপদ শিক্ষাপরিবেশ তৈরিতে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে করণীয়" শীর্ষক আলোচনা সভা।
যৌন হয়রানি প্রতিরোধকল্পে গঠিত কমিটির আহ্বায়ক এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বেগম রোকসানা মিলির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন আল-ফিকহ অ্যান্ড ল' বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু বকর মো. জাকারিয়া মজুমদার।
সভায় ছাত্র-উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. ওবাইদুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. খোন্দকার আরিফা আক্তার, অধ্যাপক ড. মোছা. হামিদা খাতুন, অধ্যাপক ড. মোছা. খোদেজা খাতুন, আইসিটি সেলের অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহা. শরিফুল ইসলাম, মুক্তি নারী ও শিশু উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মমতাজ আরা বেগম, প্রভাতী পল্লী উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক রফিকুল ইসলাম এবং সদস্য-সচিব উপ-রেজিস্ট্রার (প্রশাসন) মুহাম্মদ ইব্রাহিম খলিলসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও বৈষম্যহীন শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার এবং অভিযোগ নিষ্পত্তিতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকল সদস্যকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
একই দিনে অনুষ্ঠিত এ দুটি আয়োজন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা, মানবিক মূল্যবোধ এবং নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন গড়ে তোলার অঙ্গীকারকে আরও সুদৃঢ় করেছে। একদিকে শিক্ষার্থীদের সাফল্যের উদযাপন, অন্যদিকে সচেতনতা ও দায়বদ্ধতার বার্তা—সব মিলিয়ে দিনটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের জন্য হয়ে ওঠে স্মরণীয়।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |