কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে জমতে শুরু করেছে রাজনৈতিক উত্তাপ। সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে তৃণমূলের চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহল—সবখানেই চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। আর সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে সাবেক দুইবারের চেয়ারম্যান ও বর্তমান মরিচা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. সাইদুর রহমানের নাম।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে দুই মেয়াদের অভিজ্ঞতা এবং তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ—এই তিন সমীকরণে সাইদুর রহমানকে ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক আগ্রহ। সমর্থকদের দাবি, অতীতের অভিজ্ঞতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা তাকে আবারও চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে সামনে নিয়ে এসেছে।
মরিচা ইউনিয়নের রাজনীতিতে সাইদুর রহমানের অবস্থান দীর্ঘদিনের। এর আগে টানা দুই মেয়াদে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। দায়িত্ব পালনকালে ইউনিয়ন পরিষদের অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তার ভূমিকার কথা তুলে ধরছেন অনুসারীরা। তাদের ভাষ্য, ইউনিয়ন পরিষদকে একটি কার্যকর ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে তার সময়ে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
তবে এবার সমীকরণ ভিন্ন। সাবেক চেয়ারম্যানের অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দলীয় সাংগঠনিক দায়িত্ব। বর্তমানে মরিচা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাইদুর রহমান। ফলে নির্বাচনী মাঠে ব্যক্তিগত পরিচিতি ও জনপ্রতিনিধিত্বের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি সাংগঠনিক সক্ষমতাও তার সম্ভাব্য প্রার্থিতার আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মতে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে শুধু দলীয় পরিচয়ই শেষ কথা নয়; প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, অতীত কর্মকাণ্ড, ভোটারদের সঙ্গে সম্পর্ক, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয়তা—সবকিছুর সমন্বয়েই তৈরি হয় নির্বাচনী শক্তি। সেই বিবেচনায় দুইবারের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে সাইদুর রহমানের অভিজ্ঞতা তাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আলোচনায় স্বাভাবিকভাবেই এগিয়ে রাখছে।
তার সমর্থকদের প্রত্যাশা, অতীতের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সাইদুর রহমান আবারও নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় হলে মরিচা ইউনিয়নের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ও সাংগঠনিক ভূমিকা নির্বাচনী সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ মনে করছেন, একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো জনগণের আস্থা ও সরাসরি সম্পৃক্ততা। সেই জায়গায় সাইদুর রহমানের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা এবং দুই মেয়াদে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তার সম্ভাব্য প্রার্থিতাকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।
তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা। আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে শেষ পর্যন্ত কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, তা নির্ভর করবে দলীয় সিদ্ধান্ত, স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর। ফলে সাইদুর রহমানের সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে আলোচনা থাকলেও চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে তার নাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়।
তবু নির্বাচনের হাওয়া বইতে শুরু করতেই মরিচা ইউনিয়নের রাজনীতিতে যে নামটি বারবার উচ্চারিত হচ্ছে, সেটি মো. সাইদুর রহমান। দুইবারের সাবেক চেয়ারম্যানের অভিজ্ঞতা, বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থান এবং তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ—এই তিন শক্তিকে পুঁজি করে তিনি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে নামেন কি না, আর নামলে কতটা শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেন—এখন সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে মরিচা ইউনিয়নের রাজনৈতিক অঙ্গনে।
মরিচা ইউনিয়নের আগামী নির্বাচনী লড়াইয়ে তাই সাইদুর রহমানের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন শুধু একটি প্রার্থিতার প্রশ্ন নয়; বরং এটি স্থানীয় রাজনীতির নতুন সমীকরণেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |