কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম
কুষ্টিয়ার খাজানগর—দেশের অন্যতম বৃহৎ চালের মোকাম ও অটো রাইসমিলকেন্দ্রিক গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা। প্রতিদিন শত শত ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, রিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেলের ব্যস্ততায় মুখর থাকে এ জনপদ। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যিক এলাকার প্রধান সড়ক ও অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলোর বেহাল দশায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চাল ব্যবসায়ী, মিল মালিক, শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীরা। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ ও বড় বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে তৈরি হয় কাদা ও মরণফাঁদ। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খাজানগর এলাকায় বিপুলসংখ্যক অটো রাইসমিল ও চাতাল থাকায় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ধান-চালবাহী ভারী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল করে। অতিরিক্ত ভারী যানবাহনের চাপ সামলাতে না পেরে সড়কের বিভিন্ন অংশ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা। বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সড়কে দীর্ঘসময় পানি জমে থাকে। পরে সেই পানি ও কাদায় ভেঙে যাওয়া সড়কের গর্তগুলো আরও গভীর হয়ে ওঠে।
সড়কের এমন দুরবস্থায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন চাল ব্যবসায়ী ও মিল মালিকরা। খাজানগর থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চাল পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রতিদিনই এসব সড়ক ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু ভাঙাচোরা ও কাদাময় রাস্তায় ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করায় সময়মতো চালের ট্রাক গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। এতে পরিবহন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল চালকদের জন্য সড়কের খানাখন্দ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। গর্তে পড়ে প্রায়ই যানবাহনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে চালক ও যাত্রীরা আহত হচ্ছেন। অনেক সময় আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে। বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কোথায় কতটা গভীর গর্ত রয়েছে, তা বুঝে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ে।
এ পথে চলাচলকারী স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষও প্রতিদিন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। কাদাপানি মাড়িয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে যেতে হচ্ছে তাদের। পথচারীদের অভিযোগ, দিনের পর দিন সড়কের এমন অবস্থা চললেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মজনুর রহমান বলেন, খাজানগর দেশের অন্যতম বৃহৎ চালের মোকাম। এখান থেকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পেলেও সড়কগুলোর কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। ভারী যানবাহনের চাপ ও অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। দ্রুত সড়ক সংস্কার ও পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না করলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনজীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়বে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা বলছেন, খাজানগরের সড়ক শুধু স্থানীয় মানুষের চলাচলের পথ নয়; এটি দেশের খাদ্য সরবরাহ ও চালের ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থা। তাই বিচ্ছিন্নভাবে গর্ত ভরাট না করে টেকসইভাবে সড়ক সংস্কার, প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ এবং ভারী যানবাহন চলাচলের উপযোগী অবকাঠামো গড়ে তোলা জরুরি।
তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে সড়কগুলোর বর্তমান অবস্থা নিরূপণ এবং জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারকাজ শুরু করুক। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করা হলে খাজানগরের ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি বাড়ার পাশাপাশি প্রতিদিনের জনদুর্ভোগও অনেকাংশে কমবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |