| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

মায়ের চিকিৎসা আর মেয়ের জীবনের লড়াই—দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ালেন কাজল মাজমাদার

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 01-08-2026 ইং
  • 128 বার পঠিত
মায়ের চিকিৎসা আর মেয়ের জীবনের লড়াই—দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ালেন কাজল মাজমাদার
ছবির ক্যাপশন: অসহায় সন্ধ্যা মাসী ও সোমা দিদির ঘরে একটুখানি স্বস্তি, একটুখানি আশার আলো

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম

একটি ছোট্ট ভাড়া বাসা। সেখানে অসুস্থ বৃদ্ধা মা আর একমাত্র মেয়ের সংসার। নেই স্বামী, নেই পরিবারের অন্য কোনো সদস্য। জীবনের কঠিন বাস্তবতায় একে অপরকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে আছেন সন্ধ্যা দে ও তার মেয়ে সোমা দে। অভাব, অসুস্থতা আর অনিশ্চয়তার দীর্ঘ পথ পেরিয়ে তাদের দিন কাটে। তবুও জীবন থেমে থাকে না—মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে মেয়েটি প্রতিদিন নতুন করে বাঁচার চেষ্টা করেন।

কুষ্টিয়া শহরের তুলাপট্টি এলাকার এই মা-মেয়ের গল্প যেন নীরবে বয়ে চলা এক দীর্ঘ কষ্টের উপাখ্যান।

স্বামী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের হারিয়ে সন্ধ্যা দে এখন বার্ধক্য আর অসুস্থতার ভারে ন্যুব্জ। দুর্ঘটনায় ভেঙে গেছে তার হাত। একটি অস্ত্রোপচার হলেও চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজন আরও একটি বড় অস্ত্রোপচারের। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বয়সজনিত নানা শারীরিক জটিলতা। নিয়মিত ওষুধ কিনতে হয়, চিকিৎসার খরচ জোগাতে হয়। কিন্তু সেই সামর্থ্য কোথায়?

মায়ের চিকিৎসা আর সেবাযত্নের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন মেয়ে সোমা দে। মায়ের দেখাশোনা করতে গিয়ে নিজের সংসার গড়ার কথাও ভাবেননি তিনি। দীর্ঘদিন চাকরি করে কোনোভাবে সংসারের হাল ধরে রেখেছিলেন। কিন্তু সেই চাকরিও এখন নেই। কর্মহীন সোমার সামনে তাই একদিকে অসুস্থ মা, অন্যদিকে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ।

সংসারে নেই কোনো নিয়মিত আয়ের উৎস। একদিকে মায়ের চিকিৎসা, অন্যদিকে নিত্যদিনের খাবার ও প্রয়োজনীয় খরচ—সব মিলিয়ে যেন প্রতিটি দিনই তাদের কাছে নতুন এক পরীক্ষা।

এই কঠিন বাস্তবতার মাঝেই হঠাৎ তাদের দরজায় এসে দাঁড়াল মানবিকতার হাত।

অসহায় মা-মেয়ের দুঃখের কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পেরে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-এর পরিচালক কাজল মাজমাদার।

শনিবার সকালে তিনি নিজেই ছুটে যান সন্ধ্যা দে ও সোমা দের ভাড়া বাসায়। খোঁজ নেন তাদের জীবনসংগ্রামের। কথা বলেন মা-মেয়ের সঙ্গে। এরপর তাদের হাতে তুলে দেন এক মাসের খাদ্যসামগ্রী এবং চিকিৎসার জন্য নগদ অর্থ সহায়তা।

হয়তো এই সহায়তা তাদের জীবনের সব কষ্ট মুছে দেওয়ার মতো নয়। কিন্তু দীর্ঘ অন্ধকারে এটুকু সহায়তাই যেন তাদের জন্য একটুখানি স্বস্তির বাতাস, একটুখানি আশার আলো।

শুধু তা-ই নয়, সোমা দের কর্মহীনতার কথাও শুনেছেন কাজল মাজমাদার। মায়ের চিকিৎসা ও সংসারের ব্যয় নির্বাহে যাতে মেয়েটি নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন, সে জন্য তার একটি চাকরির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

কাজল মাজমাদার বলেন, ‘অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সবার মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ব। ফেসবুকে সন্ধ্যা দে ও তার মেয়ের অসহায়ত্বের কথা জানতে পেরে আমি নিজেই তাদের কাছে ছুটে এসেছি। আপাতত এক মাসের খাদ্যসামগ্রী ও চিকিৎসার জন্য নগদ অর্থ সহায়তা করেছি। পাশাপাশি অসুস্থ এই বৃদ্ধার মেয়ের জন্য একটি চাকরির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেব।’

তিনি বলেন, ‘সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষ যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাহলে অনেক পরিবার নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারে। মানবতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই আমি তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। আমি সমাজের সবাইকে এ ধরনের অসহায় মানুষের পাশে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।’

কাজল মাজমাদারের এই সহায়তায় যেন কিছুটা বদলে গেছে মা-মেয়ের মুখের ভাষা। দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তার ভাঁজের মাঝেও ফুটে উঠেছে কৃতজ্ঞতার ছাপ। সন্ধ্যা দে ও সোমা দে তাদের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তার প্রতি।

জীবনের কঠিন সময়ে মানুষের পাশে মানুষের দাঁড়ানোর এই গল্প হয়তো খুব বড় কোনো আয়োজন নয়। নেই কোনো আলোকসজ্জা, নেই প্রচারের জৌলুস। আছে শুধু একজন অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার আকুতি, মায়ের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করা এক মেয়ের নিরন্তর সংগ্রাম আর সেই সংগ্রামের পাশে দাঁড়িয়ে যাওয়া একজন মানুষের মানবিক হাত।

সমাজে এমন অসংখ্য সন্ধ্যা ও সোমা হয়তো নীরবে লড়াই করে চলেছেন। তাদের কষ্ট হয়তো সবসময় সবার চোখে পড়ে না। কিন্তু কেউ একজন যদি একটু খোঁজ নেন, একটু পাশে দাঁড়ান, একটু সাহস দেন—তাহলেই বদলে যেতে পারে একটি পরিবারের গল্প।

সন্ধ্যা দে ও সোমা দের ঘরেও তাই এখন দুঃখের পাশাপাশি জন্ম নিয়েছে নতুন এক প্রত্যাশা—মায়ের চিকিৎসা হবে, মেয়ে হয়তো আবার কর্মজীবনে ফিরবেন, আর একদিন এই কঠিন সময় পেছনে ফেলে তারা দুজনও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবেন।

মানবিকতার ছোট্ট একটি হাত কখনো কখনো একটি পরিবারের জন্য হয়ে ওঠে বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় আশ্রয়।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম