| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

রেললাইনের পাশে অনিশ্চিত জীবন, সরকারি ঘরের আশায় খোকসার অসহায় বিধবারা

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 03-08-2026 ইং
  • 58 বার পঠিত
রেললাইনের পাশে অনিশ্চিত জীবন, সরকারি ঘরের আশায় খোকসার অসহায় বিধবারা
ছবির ক্যাপশন: বারবার আবেদন করেও মেলেনি আশ্রয়, আতঙ্কে কাটে দিন-রাত; একটি ঘরই এখন তাদের বেঁচে থাকার স্বপ্ন

 কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম

একটু বৃষ্টি হলেই ঘরে পানি ঢোকে। ঝড় এলে বুক কাঁপে। আর ট্রেনের শব্দে রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে গেলে মনে হয়, এই বুঝি আবার কোনো বিপদ নেমে এলো। মাথা গোঁজার মতো একটি নিরাপদ ঘরের অভাবে এভাবেই অনিশ্চয়তা আর আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটছে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার শোমসপুর ইউনিয়নের কয়েকটি অসহায় পরিবারের।

তাদের অধিকাংশই বিধবা নারী। কারও স্বামী নেই, কারও নেই জমিজমা। জীবনের শেষ সম্বল বলতে রেললাইনের পাশে কোনোমতে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট্ট একটি ঘর। সেই ঘরও যেন তাদের কাছে নিরাপদ আশ্রয় নয়—বরং প্রতিদিনের উৎকণ্ঠার প্রতীক। সরকারি আবাসন প্রকল্পের একটি ঘরের আশায় তারা দিনের পর দিন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ধরনা দিয়েছেন। আবেদন করেছেন বারবার। কিন্তু এখনো মেলেনি কাঙ্ক্ষিত আশ্রয়।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শোমসপুর ইউনিয়নের রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় ভূমিহীন ও অসহায় কয়েকটি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর পরিবেশে বসবাস করছে। তাদের অনেকেরই নিজস্ব কোনো জমি নেই। সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় একটি ঘর পাওয়ার জন্য তারা একাধিকবার আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।

ভুক্তভোগী লাইলী খাতুন জানান, স্বামীহীন জীবনে সংসারের ভার একাই টেনে নিচ্ছেন। নিজের জমি নেই, নিরাপদ বসতঘরও নেই। রেললাইনের পাশে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকতে হয়। সরকারি একটি ঘরের জন্য অনেকবার আবেদন করেও কোনো সুফল পাননি তিনি।

কমেলা খাতুন (৬৫)-এর জীবনও একই অনিশ্চয়তায় ঘেরা। বয়সের ভারে ন্যুব্জ এই নারী জানেন না, জীবনের শেষ দিনগুলো কোথায় নিরাপদে কাটাবেন। সরকারি আবাসনের একটি ঘরই তাঁর একমাত্র প্রত্যাশা।

সন্ধ্যা রানী (৪৫) বলেন, ‘আমাদের নিজের কোনো জায়গা নেই। রেললাইনের পাশে থাকি। কখন কী হয়, সেই ভয় সবসময় মনে থাকে। অনেকবার সরকারি ঘরের জন্য আবেদন করেছি। আমরা কারও কাছে বেশি কিছু চাই না—শুধু মাথা গোঁজার মতো একটি নিরাপদ ঘর চাই।’

কাকলি (৩৭)-ও একই আকুতি জানিয়ে বলেন, অসহায় মানুষের জন্য সরকার ঘর দিচ্ছে—এমন খবর তারা শুনেছেন। কিন্তু তাদের ভাগ্যে সেই ঘর জোটেনি। জনপ্রতিনিধিদের কাছে বারবার ধরনা দিয়েও কোনো সমাধান না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের জন্য সরকারের নেওয়া আবাসন কর্মসূচি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে প্রকৃত অসহায় মানুষগুলো যেন কোনোভাবে তালিকার বাইরে না থাকে, সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও নজর দিতে হবে। বিশেষ করে বিধবা, প্রবীণ ও ভূমিহীন নারীদের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে বিবেচনা করে দ্রুত তাদের জন্য নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

অসহায় এসব নারীর চোখে এখন একটাই স্বপ্ন—একটি নিজের ঘর। যে ঘরে বৃষ্টির রাতে পানি পড়বে না, ঝড় এলে ভয় পেতে হবে না, আর রাতের অন্ধকারে রেললাইনের পাশের অনিশ্চয়তা তাদের ঘুম কেড়ে নেবে না। সরকারি একটি ছোট্ট ঘরই তাদের কাছে যেন নিরাপদ জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্বাস।

তাদের আকুতি—‘আমরা আর কিছু চাই না, শুধু মাথা গোঁজার মতো একটি সরকারি ঘর চাই।’

এখন দেখার বিষয়, শোমসপুর ইউনিয়নের এই অসহায় ভূমিহীন পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের আকুতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে কি না, আর রাষ্ট্রের আশ্রয়হীন মানুষের জন্য নেওয়া আবাসন কর্মসূচির আওতায় তারা শেষ পর্যন্ত একটি নিরাপদ ঠিকানা পায় কি না।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম