কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম
মাটির গন্ধে মিশে আছে সম্ভাবনা, আর কৃষকের ঘামে ফুটে উঠছে সাফল্যের গল্প। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল ইউনিয়নের বড়ীয়া গ্রামের ‘মসলা গ্রাম’ এখন যেন সেই সম্ভাবনারই এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি। একসময় যেখানে প্রচলিত ফসলের চাষই ছিল কৃষকের প্রধান ভরসা, সেখানে আধুনিক পদ্ধতিতে মসলা চাষ কৃষকের জীবনে এনে দিচ্ছে নতুন স্বপ্ন।
‘মসলা গ্রাম’-এ মসলা চাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় ও মসলা গাছ রোপণ কর্মসূচিকে ঘিরে কৃষকদের মধ্যে দেখা গেছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সংশ্লিষ্টরা মসলা চাষের সম্ভাবনা, উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষকের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
মতবিনিময় সভায় কৃষকেরা মসলা চাষের অভিজ্ঞতা, সম্ভাবনা ও নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তারা জানান, মসলা জাতীয় ফসলের চাহিদা সারা বছর থাকায় সঠিক জাত নির্বাচন, উন্নত চাষপদ্ধতি, মানসম্মত বীজ এবং প্রয়োজনীয় কৃষি পরামর্শ পাওয়া গেলে এ খাত আরও লাভজনক হয়ে উঠতে পারে।
পরে ‘মসলা গ্রাম’-এ মসলা গাছ রোপণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। মাটিতে নতুন চারা রোপণের সেই দৃশ্য যেন কৃষির নতুন দিনের প্রত্যয়েরই প্রতীক হয়ে ধরা দেয়।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বটতৈল ইউনিয়নের বড়ীয়া গ্রামের মতো এলাকায় পরিকল্পিতভাবে মসলা চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে স্থানীয় কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি দেশের মসলা উৎপাদনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব। একই সঙ্গে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
স্থানীয় কৃষকদের প্রত্যাশা, মসলা চাষকে ঘিরে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, উন্নত জাতের বীজ ও চারা সরবরাহ, কারিগরি পরামর্শ এবং উৎপাদিত মসলার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে। এতে ‘মসলা গ্রাম’ শুধু একটি গ্রামের পরিচয় হয়ে থাকবে না; এটি হয়ে উঠতে পারে কুষ্টিয়ার কৃষি অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
কৃষকের হাতে যখন মসলা গাছের চারা, তখন সেই চারার সঙ্গে রোপিত হয় আরও একটি স্বপ্ন—নিজের মাটিতে উৎপাদন, নিজের ঘরে সমৃদ্ধি। বড়ীয়ার ‘মসলা গ্রাম’ সেই স্বপ্নকেই যেন ধীরে ধীরে বাস্তবতার সবুজ পাতায় লিখে চলেছে।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |