| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

কুষ্টিয়ার মিরপুরে রেলওয়ের জমি নিয়ে বিরোধ আদালতের দ্বারস্থ বাংলাদেশ রেলওয়ে

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 28-03-2026 ইং
  • 33773 বার পঠিত
কুষ্টিয়ার মিরপুরে রেলওয়ের জমি নিয়ে বিরোধ আদালতের দ্বারস্থ বাংলাদেশ রেলওয়ে
ছবির ক্যাপশন: কুষ্টিয়ার মিরপুরে রেলওয়ের জমি নিয়ে বিরোধ আদালতের দ্বারস্থ বাংলাদেশ রেলওয়ে

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:

কুষ্টিয়ার মিরপুর সিভিল জজ আদালতে বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল কর্তৃপক্ষের দায়ের করা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বত্বপ্রচার মামলা ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় এক শতাব্দী পুরোনো রেকর্ড ও জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা নতুন করে সামনে আসায় বিষয়টি জনমনে কৌতূহল তৈরি করেছে।

মামলার বাদী হিসেবে রাজশাহীস্থ বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার উল্লেখ করেছেন, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কাটদহ মৌজায় অবস্থিত প্রায় ১২.৪২ একর জমি ঐতিহাসিকভাবে রেলওয়ের মালিকানাধীন। তবে সময়ের পরিক্রমায় বিভিন্ন ব্যক্তি ভ্রমাত্মক রেকর্ডের মাধ্যমে ওই জমির অংশবিশেষ নিজেদের নামে লিপিবদ্ধ করে নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, ১৯২১-২২ সালের দিকে ইজারার সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যক্তি জমির রেকর্ড নিজেদের নামে করে নেন। পরবর্তীতে সি.এস, এস.এ ও আর.এস রেকর্ডের বিভিন্ন ধাপে এসব ভ্রান্ত তথ্য বহাল থাকে। যদিও সংশ্লিষ্ট সময়ে এসব অনিয়ম সম্পর্কে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ অবগত ছিল না বলে দাবি করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, মূল ১২.৪২ একর জমির মধ্যে মাত্র ১.১৫ একর জমি রেলওয়ের নামে সঠিকভাবে রেকর্ড রয়েছে। বাকি ১১.২৭ একর জমিই বর্তমানে মামলার নালিশী সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

মামলায় মোট ১৮ জনকে বিবাদী করা হয়েছে, যার মধ্যে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি ছাড়াও কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসককে সরকারের পক্ষে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাদীপক্ষ অভিযোগ করেছে, বিবাদীগণ সাম্প্রতিক সময়ে ভ্রান্ত রেকর্ডের ভিত্তিতে জমির ওপর ‘ভূয়া স্বত্ব’ দাবি উত্থাপন করেছেন, যা রেলওয়ের স্বত্বে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

এ প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ রেলওয়ে আদালতের কাছে নালিশী জমির ওপর স্বত্ব ঘোষণা, মামলার খরচ আদায় এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছে। মামলার মূল্য ধরা হয়েছে ৫ লাখ টাকা।

আইনজীবী মহলের মতে, পুরোনো রেকর্ড সংশোধন ও প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে এ ধরনের মামলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আদালতের রায়ে শুধু সংশ্লিষ্ট জমির ভবিষ্যৎই নয়, বরং অনুরূপ অন্যান্য বিরোধ নিষ্পত্তির দিকনির্দেশনাও পাওয়া যেতে পারে।

স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ দ্রুত নিষ্পত্তির আশা করছেন, আবার অনেকে দীর্ঘদিনের জটিলতা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।

এখন সবার দৃষ্টি মিরপুর সিভিল জজ আদালতের দিকে—যেখানে ইতিহাস, দলিল আর আইনের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণে নির্ধারিত হবে এই জমির প্রকৃত মালিকানা।



ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম