মেহেরপুর প্রতিনিধি | হিরক খান
মেহেরপুরে প্রতিবন্ধী এক নারীকে ধর্ষণের মামলায় পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কলিম উদ্দিন ওরফে কালুকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাকে। পাশাপাশি আদালত তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ নিলামে বিক্রি করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ ভুক্তভোগীকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মাসুদ সেখ এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর এজলাস থেকে বের হওয়ার সময় আসামি কলিম উদ্দিন কালু আদালত প্রাঙ্গণেই অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে তাকে উদ্ধার করে মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ঘটনার শুরু ২০২৩ সালের সেই রাতে
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী নারী রাতের খাবার খেয়ে ঘরে ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় কলিম উদ্দিন কালু তার ঘরে প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণ করেন। ভুক্তভোগীর চিৎকারে তিনি পালিয়ে যান। ঘটনার পর ২১ ডিসেম্বর ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে মেহেরপুর সদর থানায় মামলা করেন।
মামলাটির তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ভুক্তভোগীর পরিহিত কাপড় ঢাকার সিআইডিতে পাঠানো হয়। ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলও মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে আসে। আদালতে মামলাটিতে ১৩ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ দণ্ডাদেশ দেন।
‘প্রভাবশালী হলেও আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন’
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলাটি পরিচালনার ক্ষেত্রে আসামিপক্ষ থেকে নানা ধরনের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়েছিল। এমনকি আপসের চেষ্টা ও সাক্ষীদের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগও ছিল। আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত তার অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে।
পিপি তুহিন অরণ্যের বক্তব্যের সারকথা—অভিযুক্ত ব্যক্তি যতই প্রভাবশালী হোন না কেন, আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। আদালতের এ রায় সেই নীতিরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন রাষ্ট্রপক্ষ।
এদিকে আদালতের রায়ে ভুক্তভোগীর জন্য সম্পদ বিক্রি করে অর্থ দেওয়ার নির্দেশকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে শাস্তির পাশাপাশি ভুক্তভোগীর জন্য ক্ষতিপূরণের একটি আইনি পথ নিশ্চিত হয়েছে।
একটি জনপদের নীরব ঘর থেকে শুরু হওয়া অভিযোগের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আজকের আদালতকক্ষে এসে দাঁড়াল বিচার। রায়ের মুহূর্তে আসামির অসুস্থ হয়ে পড়ার দৃশ্য যেমন আদালত প্রাঙ্গণে আলোড়ন তুলেছে, তেমনি এ রায় আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে—ক্ষমতা, পদ কিংবা সামাজিক পরিচয় কোনো কিছুই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |