কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম
নিয়োগপত্র নেই, পরিচয়পত্র নেই—অনেক ক্ষেত্রেই নেই ঘোষিত ন্যায্য মজুরির বাস্তবায়ন। শ্রম আইনের সুরক্ষা থেকেও বঞ্চিত থাকার অভিযোগ হোটেল, রেস্তোরাঁ, মিষ্টি ও বেকারি খাতের শ্রমিকদের। দীর্ঘদিনের এই বঞ্চনা ও অধিকারহীনতার অবসান ঘটাতে এবার সরাসরি প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।
নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র নিশ্চিত করা, ঘোষিত মজুরির গেজেট দ্রুত বাস্তবায়ন এবং শ্রম আইন কার্যকর করার দাবিতে কুষ্টিয়ায় স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারি শ্রমিক ইউনিয়ন বি-২১২৬, কুষ্টিয়া জেলা কমিটি।
সোমবার (৩১ আগস্ট ২০২৬) দুপুর ১২টায় দেশব্যাপী কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে কুষ্টিয়ায় এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপি গ্রহণ করেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মিজানুর রহমান।
শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বলেন, হোটেল, রেস্তোরাঁ, মিষ্টি ও বেকারি খাতে কর্মরত অসংখ্য শ্রমিক আজও নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র ছাড়াই কাজ করছেন। ফলে কর্মসংস্থানের কোনো স্থায়ী নিশ্চয়তা না থাকার পাশাপাশি চাকরিচ্যুতি, মজুরি বৈষম্য ও অন্যান্য শ্রম অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় তারা কার্যকর আইনি সুরক্ষা পেতে নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।
তাদের অভিযোগ, শ্রমিকদের জন্য ঘোষিত মজুরি কাঠামোর গেজেট বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় অনেক শ্রমিক ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে শ্রম আইন যথাযথভাবে কার্যকর না হওয়ায় কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত হচ্ছে না।
শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘শ্রমিকের ঘাম ঝরবে, কিন্তু তার অধিকার থাকবে না—এ বাস্তবতা আর চলতে পারে না।’ তারা অবিলম্বে প্রতিটি শ্রমিককে নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান, ঘোষিত মজুরির গেজেট বাস্তবায়ন এবং শ্রম আইন কঠোরভাবে কার্যকর করার দাবি জানান।
তারা আরও বলেন, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও বেকারি খাত দেশের অর্থনীতি ও সেবাখাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অথচ এই খাতের শ্রমিকদের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে মৌলিক শ্রম অধিকার থেকে বঞ্চিত। তাদের জীবনমান উন্নয়ন এবং কর্মক্ষেত্রে ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
স্মারকলিপির মাধ্যমে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট করে দিয়েছেন—এটি শুধু মজুরি বৃদ্ধির দাবি নয়, এটি কর্মক্ষেত্রে পরিচয়, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকারের দাবি। এখন শ্রমিকদের সেই দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে কুষ্টিয়ার হোটেল-রেস্তোরাঁ, মিষ্টি ও বেকারি খাতের হাজারো শ্রমজীবী মানুষ।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |